‘সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে দেশকে পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা চলছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৮:০৫

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, সাম্প্রদায়িক আঘাত দিয়ে বাংলাদেশকে পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা চলছে। তবে তারা সফল হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আবার নতুনভাবে আঘাত হানছে। এ আঘাত দিয়ে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। তারা মাথা নিচু করে, কুকুরের মতো লেজ গুটিয়ে আজকে চোরাগুপ্তা হামলা করছে। এই চোরাগুপ্তা হামলাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কার্যালয়ে ‘শেখ রাসেল দিবস’ ২০২১ উপলক্ষে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বেগম লায়লা জেসমিন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর, বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম এবং বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী বিআইডব্লিউটিসি কার্যালয়ে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে বাংলাদেশকে পঁচাত্তর থেকে আজকে ২০২১ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৬ বছর যাবত বাংলাদেশে একই গল্প শোনানো হয়েছে, সাম্প্রদায়িকতার গল্প। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক বীজ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। পারে নাই।

খালিদ বলেন, আমরা যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, দারিদ্র্যকে দূর করে যখন একটা উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যখন এ বাংলাদেশ রাসেলের মতো শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ দেশে পরিণত হচ্ছে। তখন আমরা কী দেখতে পাচ্ছি! আরেক ধরনের সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে এই বাংলাদেশকে আবার পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সব ধর্মের মানুষ সম্মিলিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। আজ পর্যন্ত কী নির্ণয় হয়েছে কত লাখ হিন্দু,কত লাখ মুসলমান, কত লাখ বৌদ্ধ, কত লাখ খ্রিষ্টান জীবন দিয়েছে? সবাই বাঙালি, এ বাংলাদেশের নাগরিক। সম্মিলিতভাবে এখানে এই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। এই যে, সম্মিলিত রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে সংবিধান রচিত হয়েছিল। আজকে মন্দির ভাঙা হচ্ছে, মসজিদ ভাঙা হচ্ছে, প্যাগোডা ভাঙা হচ্ছে; কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের যে সবচেয়ে বড় সংবিধান; যেটাকে জিয়াউর রহমান, এরশাদ ক্ষত-বিক্ষত করেছিল। সে কথা কেউ বলছে না। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে অপরাধী ও খুনিদের পক্ষ অবলম্বন করল। এ সংবিধানকে খুনি এবং অপরাধীরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করল, সে কথা কেউ বলছে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে না পারব; ততক্ষণ পর্যন্ত এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বারবার আঘাত করতে পারে। কিন্তু পারবে না; পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট রাসেলকে হত্যা করে তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারেনি। আজকে এই বাংলাদেশে কোটি কোটি রাসেল জন্ম নিয়েছে। এটাতো থামাতে পারেনি।

(ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/টিএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :