ডান-বাম এক করে সরকারকে হটাতে চান ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৮:২২ | প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৫৭

জনগণের ওপর চেপে বসে সরকার দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্প্রীতি সব নষ্ট করছে এমন দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে ডান, বাম সবাইকে এক হয়ে এই দানব সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের এক মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় ‘সৈনিক জীবন থেকে রাষ্ট্রনায়ক জিয়া’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশের মানুষ আরও বেশি কষ্ট পাবে- এমন মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। আজকে তাকে স্মরণে রাখতেই প্রতিষ্ঠিত হয় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। গত ২২ বছরে জেডআরএফ অসংখ্য জনকল্যাণমূলক কাজ করেছে। প্রথমে কমল নামে ধানের বীজ উৎপাদন ও বিতরণ করা হয়। বন্যার্তদের মাঝে নানাভাবে সহায়তা করেন। ১/১১‘র পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জেডআরএফের কর্মকাণ্ড পরিচালনার ধরন পরিবর্তন হয়। আমি মনে করি জিয়াউর রহমানকে আরও বেশি করে স্মরণে রাখতে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মেধাবী চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও কৃষিবিদদের পুরস্কার তথা মেধাবৃত্তি চালু করা উচিত। জিয়াউর রহমানকে জানতে হলে তাকে নিয়ে লেখা বইগুলো পড়তে হবে। কেননা জিয়া ছিলেন ক্ষণজন্মা পুরুষ।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৭১ সালে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশবাসীকে বিদ্যুতের মতো শক করেছিল। তার স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যদিয়ে দেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এটা নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই, যা নির্ধারিত। দেশের যতজন মানুষ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বই লিখেছেন সবকটি বইয়ের মধ্যে তাকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা জিয়াউর রহমানকে কটাক্ষ করে, তাকে খাটো এবং হেয় করার চেষ্টা করে তারা মূলত দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের ওপর চেপে বসা দানব সরকার সমাজ ভেঙে খান খান করে দিচ্ছে। ইতিহাস ঐতিহ্য সম্প্রীতি সব নষ্ট করে দিচ্ছে। আজকে দেশের নাগরিক হয়ে কেনো তার ধর্মীয় দিবস উদযাপন করতে পারবে না। সরকার পরিকল্পিতভাবে এসব করছে। তারা আবার শান্তির নীতি করতে চাই। তারা তো ৭৫ সালে গণতন্ত্র নিজ হাতে হত্যা করে আবার গণতন্ত্রের কথা বলছে। আজকে দেশে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা আমরা চাই নি। আমরা স্বাধীন দেশে নাগরিক হয়ে থাকতে চাই।’

একই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়শ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রাজনীতিবিদরা যেখানে ব্যর্থ সেখানে জিয়ার সফল উত্থান। তিনি জেনেশুনে আই রিভোল্ট বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বিশ্বের সব বিপ্লবের সাথে একজন ব্যক্তির নেতৃত্ব থাকে। যা শহীদ জিয়ার ছিলো। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের মধ্যে সবাইকে সম্পৃক্ত করেন। তিনি দেশের সমৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। আজকে মানুষ না খেয়ে মরছে না বলা হয়। তবে গুম হয়ে মরে ঠিকই।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জিয়া ছিলেন জনগণের। তার মতো সততা, দেশপ্রেম, সাহসের সঙ্গে কারও তুলনা হয় না। তিনি দেশে একটা জাগরণ তৈরি করেছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশবাসী জেগে উঠেছিল। দেশের সকল উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণকে সম্পৃক্ততা করেছিলেন তিনি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপ-কমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রেভিসি অধ্যাপক ড. আফম ইউসুফ হায়দার, অ্যাবের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মিয়া মো. কাইয়ুম, বিএমএর সাবেক মহাসচিব ডা. গাজী আবদুল হক, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আবদুল করিম প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/১৯অক্টোবর/বিইউ/এমআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :