দুধ কখন এবং কীভাবে খাবেন?

ফিচার ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:২২ | প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১০:৩৪

পুষ্টি উপাদান বেশি থাকায় দুধকে শ্রেষ্ঠ খাবার বলা হয়। এটি আদর্শ খাবারেরও উপাধি পেয়েছে। শিশু থেকে বয়স্ক, সব বয়সী মানুষের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পান করা উচিত।

অ্যাসিডিটির সমস্যা, পিরিয়ডের সময় তীব্র যন্ত্রণা, কাজের স্ট্রেসে অস্থির অবস্থা- এসব সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে এক গ্লাস দুধ।

অনেকেই খাওয়ার পর বা সকালে বা দিনের অন্য কোনও সময় দুধ পান করেন। আমাদের সমাজে দুধের গুরুত্ব এতটাই যে, একেবারে শৈশবেই দুধ পানের অভ্যাস গড়ে তোলা হয়। প্রত্যেক মা মনে করেন যে, দুধ পান করলে তার সন্তানের স্বাস্থ্য ভালো হবে। সেইসঙ্গে দুধের ব্যবহার বিভিন্ন সুস্বাদু খাদ্য তৈরিতে হয়ে থাকে।

দুধে প্রোটিন, ভিটামিন বি ১, বি ২, বি ১২, ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়ামের মতো জরুরি উপাদান থাকে। সেজন্য দুধকে সুষম আহারও আখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে। কারণ, তা ভিটামিন, ফ্যাট, প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটে ভরপুর।

কোন সময়ে দুধ পান করলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়, তা আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে। আয়ুর্বেদ অনুসারে দুধ পান করা যেতে পারে।

দুধ পানের পূর্ণ লাভ পেতে চাইলে জানতে হবে, তা পান করার সঠিক সময় ও পদ্ধতি।

আয়ুর্বেদ অনুসারে, টক ফলের সঙ্গে কখনও দুধ খাওয়া উচিত নয়। আয়ুর্বেদ নিয়ম অনুসারে, আম, কলা, তরমুজ ও অন্য টকস্বাদ যুক্ত ফলের সঙ্গে দুধের ব্যবহার ঠিক নয়।

কলা দুধের সঙ্গে মিশলে তাতে গ্যাস তৈরি হতে শুরু করে, যা অন্ত্রে গিয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর ফলে সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি ও শরীরে লাল লাল দাগ তৈরির মতো আশঙ্কা থাকে।

আয়ুর্বেদ অনুসারে, শরীরকে শক্তিশালী ও মাংসপেশী মজবুত করতে চাইলে সকালে দুধ পান করা উচিত।

প্রত্যেকের দুধ ঠিক সহ্য হয় না। এক্ষেত্রে সকালে দুধ পান করলে তার হজমে সমস্যা হতে পারে। এ জন্য সারাদিন অস্বস্তিতে থাকতে হতে পারে। আয়ুর্বেদ অনুসারে, পাঁচ বছরের বেশি বয়সীদের সকালে দুধ পান এড়িয়ে রাতে খাওয়ার পর শোয়ার আগে তা পান করা উচিত। আয়ুর্বেদ অনুসারে, নোনতা জিনিসের সঙ্গে দুধ পান করা উচিত নয়।

আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে, রাত দুধ পানের উপযুক্ত সময়। কারণ, শোয়ার সময় পাচন ক্রিয়া দ্রুত হয়। এর ফলে দুধের হজম ভালো হয়। দুধে এমন উপাদান রয়েছে, যাতে ঘুম ভালো হয়। রাতে দুধ পান করলে শরীরে ক্যালসিয়াম ভালোভাবে জোগাতে পারে।

অন্যদিকে ঘুমের সমস্যা থাকলে রাতে শোয়ার আগে অশ্বগন্ধার সঙ্গে দুধ পান করা যেতে পারে। এতে স্মৃতিশক্তি প্রখর থাকবে এবং ভালো ঘুম আসতেও তা সহায়ক। আয়ুর্বেদ অনুসারে, অ্যালার্জি না থাকলে প্রত্যেক ব্যক্তিরই দুধ পান করা উচিত। আয়ুর্বেদ অনুসারে, রাতে খাওয়ার পর শোয়ার আগে দুধ পান করা উচিত।

অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে চা কিংবা দুধ দিয়ে ওষুধ খাওয়ার। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ দিয়ে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। তবে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে আয়ুর্বেদিক ওষুধ দুধ দিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

বাসি দুধ পান করা এড়িয়ে চলুন। কারণ, বাসি দুধের থেকে টাটকা দুধের গুণগতমান অনেক বেশি। এ ছাড়া বাসি দুধ শরীরে নানাবিধ সমস্যা তৈরি করে। তাই সর্বদা টাটকা এবং ভালো করে ফুটিয়ে দুধ পান করুন।

দুধ পানের আগে বা পরে টক জাতীয় ফল বা আচার কিছু খাবেন না। এছাড়াও নোনতা জাতীয় খাবার ফাস্ট ফুড চিপস এ জাতীয় খাবেন না। খেতে হলে এক ঘন্টা বিরতি দিয়ে তবেই খাবেন। নাহলে কেমিক্যাল রি-একশ্যান হয়ে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিবে।

রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস দুধ হলুদ মিশিয়ে পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে ও হজম শক্তির ক্ষেত্রেও সংশোধন হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৭নভেম্বর/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :