স্বাস্থ্যখাতে বৈষম্য দূর করতে আমূল পরিবর্তন চান জনস্বাস্থ্যবিদরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল ২০২২, ১৯:০২

অনেক দেশে যেখানে বিনামূল্যে ও অতি সহজ উপায়ে জনগণকে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়, সেখানে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। এজন্য চিকিৎসা খরচ বহন করতে গিয়ে অনেকে দারিদ্র সীমার নিচে চলে যাচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যখাতের বৈষম্য দূর করতে বিদ্যমান স্বাস্থ্যনীতি কার্যকর করার পাশাপাশি আমূল পরিবর্তন চান জনস্বাস্থ্যবিদরা।

শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিকাশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন জনস্বাস্থ্যবিদ, বিশেষজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের আহ্বায়ক আহমদ রাজা মোশতাক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতের নানা সমস্যা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পরামর্শ। তারা বলেন, অন্যান্য দেশে জিডিপির বড় একটা অংশ স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করলেও বাংলাদেশ সেখানে এক ভাগেরও কম। ফলে বিনিয়োগ না বাড়ায় অনেককিছু অগ্রগতি হলেও পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। চিকিৎসা খরচের ৬৭ ভাগের বেশি ব্যক্তির পকেট থেকে যাচ্ছে। তাই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনেই চলমান স্বাস্থ্যের ভঙ্গুর অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।

‘স্বাধীনতার পঞ্চশ বছর: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিকাশ’-বইটির প্রসঙ্গ তুলে সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোপারেশন এজেন্সির (সিডা) স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চশ বছর একটি বড় মাইলফলক। আর বইটি স্বাস্থ্যখাতে একটি দলিল। আমাদের মাতৃ ও শিশু মৃত্যু কমেছে। কিন্তু স্বাস্থ্যে যে বৈষম্য বাড়ছে, সেটি খুবই দুঃখজনক।

স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক মানুষ স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে যাচ্ছে। গড় আয়ু বাড়লেও স্বাস্থ্যসেবা ভালো না হওয়ায় শেষ সময়ে গিয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন বয়স্করা। এজন্য একটি স্বাস্থ্য কমিশন জরুরি।

সরকার না করলেও ব্যক্তি উদ্যোগে এই কমিশন হওয়া দরকার বলে মনে করেন এই স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ।

বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য বৈষম্যহীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. মালেকা বানু।

এই নারী নেত্রী বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য বাজেট অপ্রতুল, অব্যবস্থাপনা আরও বেশি। করোনা মহামারিতে সেটা আমরা দেখেছি। এমডিজিতে আমাদের সাফল্য কেবলমাত্র সংখ্যায় হয়েছে কিন্তু বাস্তবে সেটি তেমনটা প্রভাব ফেলেনি।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এমন দাবি করে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, বিশ্বে আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে ইতিবাচক ধারণা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কি ছিল, আর এখন কি অবস্থা সেটি আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেই সঙ্গে ২০০৯ সালের পর বর্তমান। অনেক দেশ জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ খরচ ব্যয় করে, আমাদের এক শতাংশেরও কম। তারপরও আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এগিয়েছে। যেটি ইতিবাচক। তবে অনেক অব্যবস্থাপনাও রয়েছে।

হাসপাতালভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা জেলা ভিত্তিক পরিচালনা করতে হবে। সেক্ষেত্রে নিয়মিত ডাক্তার থাকা, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিসহ সবধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা রেফারেল সিস্টেম চালু করতে না পারব, ততদিন এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না। পর‌্যাপ্ত চিকিৎসকেরও অভাব রয়েছে। আমাদের অবকাঠামো অনেক ভাল। সঙ্গে যদি এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে প্রকৃতপক্ষেই মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যে মোট ব্যয়ের ১৫ শতাংশ হওয়া দরকার, কিন্তু সেটিতে আমরা একেবারে পিছিয়ে। ফলে সার্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। আবার হাসপাতালগুলোতে নানা অব্যবস্থাপনা। অনেক দামি দামি জিনিসপত্র কেনা হয় কিন্তু সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না। আছে নিয়োগে অনিয়ম। তারপরও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে দেশের স্বাস্থ্যখাত অনেক এগিয়েছে।

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. রওনক জাহান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ডাক্তারদের ভূমিকা নিয়ে দেশে তেমন লেখালেখি নেই। একই সঙ্গে তথ্য প্রযুক্তি, অর্জনের সঙ্গে কোথায়, কেন আমাদের স্বাস্থ্যখাতের ঘাটতি সেগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে বইটিতে।

রওনক জাহান বলেন, থাইল্যান্ড গত ৬০ বছরে সার্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পেরেছে। কিভাবে পেরেছে, সেটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

নারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিছুটা উন্নতি হলেও নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, মাতৃমৃত্যু শতভাগ রোধ করা যাচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

রওনক জাহান বলেন, আমরা সবাই বলছি, অর্থায়ন বাড়াতে হবে অপরপক্ষে যতটুকু বরাদ্দ হচ্ছে সেগুলো ব্যয় করতে পারছি না। এ ছাড়া সুশাসনের ঘাটতির বিষয়টা ২৫ বছর ধরে বলা হচ্ছে, তারপরও তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না। দুই যুগ আগে হাসপাতালগুলোর যে পরিবেশ ছিল, এখনো তাই রয়েছে। সেই সময়ে যে সুপারিশ আমরা করেছিলাম সেগুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ইউরোপ ও সাউথ ইস্টের দেশগুলোতে রোগীতের প্রতি যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকে, আমাদের সেখানে খুবই পিছিয়ে।

(ঢাকাটাইমস/০২এপ্রিল/বিইউ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর সর্বশেষ

১০ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি নৌযান শ্রমিকদের

বিদেশিদের উপদেশের প্রয়োজন নেই, সময় হলে অ্যাকশন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্ষমতায় এসে বিএনপির অত্যাচার ছিল হানাদার বাহিনীর মতো: প্রধানমন্ত্রী

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়া বড় জমায়েত সম্ভব নয়

পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের লোকেশন শিগগির পাওয়া যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আইনজীবীদের তালিকা চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট

আমনের দাম বেড়েছে মণপ্রতি ৩০০ টাকা, চাষির মুখে খুশির ঝিলিক

যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি করেছি: প্রধানমন্ত্রী

বিমান যোগাযোগ বাড়াতে আরও সহযোগিতা চায় সংযুক্ত আরব আমিরাত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন আইওআরএ মন্ত্রীরা

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :