মনে পড়ে জজ মিয়ার কথা? ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে তার লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ আগস্ট ২০২২, ১৯:৩৯

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মামলায় সাজানো ‘জজ মিয়া নাটকের’ শিকার মো. জালাল ওরফে জজ মিয়াকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বিনা অপরাধে কারাভোগ করা জজ মিয়ার পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির ও মোহাম্মদ কাউছার বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

ওই ঘটনায় নিরীহ জজ মিয়াকে বিনা অপরাধে চার বছর কারাভোগ করতে হয়েছিল। এতে তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে উল্লেখ করে তাকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে এই নোটিশ পাঠানো হয়।

আইনি নোটিশ যাদের কাছে পাঠানো হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জামান বাবর, পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক খোদা বকশ চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রশীদ, মুন্সী আতিকুর রহমান, সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিনসহ ১১ জন।

মিথ্যা স্বীকারোক্তি নিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে এই নোটিশ দিয়েছেন সেই জজ মিয়া। ১৫ দিনের সময় দিয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে নোটিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নোটিশে বলা হয়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমান ও অন্যান্য নেতা-কর্মীসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, সাধারণ মানুষসহ কয়েকশো। নজিরবিহীন বর্বরোচিত ভয়াবহ ওই মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হন। তাঁর কানের মারাত্মক ক্ষতি হয়। ওই ঘটনায় পঙ্গুত্ব এবং আঘাতের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে।

এ ঘটনায় ২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে ধরে আনা হয় জজ মিয়া নামের নিরীহ যুবককে। জজ মিয়াকে ১৭ দিন রিমান্ডে রেখে, ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে একটি সাজানো জবানবন্দি আদায় করে সিআইডি। ২০০৫ সালের ২৬ জুন আদালতে দেয়া ওই কথিত স্বীকারোক্তিতে জজ মিয়া বলেছিলেন, ‘পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বড় ভাইদের নির্দেশে তিনি অন্যদের সঙ্গে গ্রেনেড হামলায় অংশ নেন। ওই বড় ভাইয়েরা হচ্ছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, জয়, মোল্লা মাসুদ ও মুকুল।’

পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে এই মামলার তদন্তের উদ্যোগ নেয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ জুন এ-সংক্রান্ত মামলা দুটির অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অব্যাহতি দেওয়া হয় জোট সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়া জজ মিয়াকে। বিনা অপরাধে কয়েকবছর কারাভোগ করতে হয়েছিল তাকে। ইতোমধ্যে ওই মামলায় বিচারিক আদালতে রায় হয়েছে। বিচার চলাকালে জজ মিয়াকে ফাঁসানোর গল্প সাক্ষ্য প্রমাণে উঠে এসেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন জানিয়েছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আসামিপক্ষে আনা আপিল শুনানি শিগগিরই শুরু হচ্ছে হাইকোর্টে।

(ঢাকাটাইমস/১১আগস্ট/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অপরাধ ও দুর্নীতি এর সর্বশেষ

গাজীপুরে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

চবিতে ছাত্রলীগ কর্মীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় সাংবাদিককে ‘মারধর’

বিমানের আরো চার সিবিএ নেতাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

স্ত্রীকে হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রেমিকাসহ গ্রেপ্তার স্বামী

অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য হত্যা করা হয় ডোমারের স্কুলছাত্র আরিফকে, গ্রেপ্তার ২

কোথায় আছেন ক্যাসিনো সেলিম, দিন কাটছে কীভাবে?

ভবন বেয়ে ওঠা চোর 'স্পাইডারম্যান' বিল্লাল সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যানসহ ৯ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি ও পরিচালকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে

বিমানের সাবেক কান্ট্রি ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :