ছড়িয়ে পড়ছে গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস, কতটা ভয়ঙ্কর এই রোগ?

আহসান আলম, চুয়াডাঙ্গা
 | প্রকাশিত : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৭:০৬

দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে গরুর 'লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস। এটি মূলত ভাইরাস জনিত রোগ। এ রোগের লক্ষণ ও সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় খামারি ও কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা।

এই রোগের কারণে খামারিরা আশঙ্কা করে বলছেন, ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছি আমরা। এমনিতেই গরুর খাবার ভূষি, খৈল, ঘাসের দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এর মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। কোনো গরু আক্রান্ত হলে, সেই গরু বেঁচে থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

খামারি ও কৃষকরা জানান, হঠাৎ গরুর শারীরিক তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাচ্ছে। শরীরজুড়ে ছোট ছোট টিউমারের মতো ফুলে উঠছে। এ সমস্যা মাথায়, ঘাড়ে ও পায়ে এসব বেশি দেখা যাচ্ছে। চামড়া উঠে ক্ষতে পরিণত হচ্ছে। এ সময় গরু খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ লাম্পি স্কিন ডিজিজের। ক্ষুরা রোগের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর লাম্পি স্কিন ডিজিজ। সাধারণত শরতের শুরুতে ও বর্ষার শেষে মশা-মাছির মাধ্যমে এই রোগ বেশি বিস্তর আকার ধারণ করে। মশা-মাছির এবং খাবারের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ভাইরাসজনিত এ রোগটি বেশি ছড়ায়।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার আব্দুল্লা আল মামুন ঢাকা টাইমসকে বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস জনিত এই রোগটি নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। কারন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার হার খুবই কম, মাত্র ০.৫% শতাংশ। লাম্পি স্কিন ডিজিজ মূলত একটা ভাইরাস জনিত রোগ। তবে বাছুর গরু আক্রান্ত হলে বেশি সমস্যা হয়। বাছুর গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে যার কারনে এদের মৃত্যু হতে পারে। এ নিয়ে খামারিরা এখন একটু দুশ্চিন্তায় আছেন। এই রোগের সরকারি কোন ওষুধ এই মুহূর্তে বরাদ্দ নেই। এখন পর্যন্ত সরকারী কোন ভ্যাকসিন আমাদের স্টকে নেয়, তবে খুব দ্রুত সরকারি ভ্যাকসিন আমাদের হাতে এসে পৌঁছাবে। এই মুহূর্তে বেসরকারি পর্যায়েও এর কোন ভ্যাকসিন নেই। এই ভাইরাসের সঠিক চিকিৎসা দেওয়া না হলেও রোগটি একটা সময় আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ দিন পরে এমনিতেই ভালো হয়ে যাই, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা না দেয়া হলে পরবর্তীতে গরু দূর্বল হয়ে যাই, গরু উঠতে পারে না, অণ্ডকোষ, গলা ও পা ফুলে গরুর মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং সেক্ষেত্রে গরু মারাও যেতে পারে।আক্রান্ত গবাদি পশুর চোখ দিয়ে পানি ঝরছে, যার কারণে চোখ অন্ধও হয়ে যেতে পারে। গর্ভবতী প্রাণীদের গর্ভপাত হতে পারে। গ্রামের বেশির ভাগ কৃষক ও খামারি না বুঝেই বিভিন্ন হাতুরে ডাক্তার দিয়ে গরু চিকিৎসা করতেছে যার কারনে রোগটি সেরে যাওয়ার পরেও বিভিন্ন জটিলতায় ভূগছে। ভাইরাস জনিত এই রোগটি শুধু দামুড়হুদা উপজেলাতেই নয় সমস্ত বাংলাদেশে এই সময়টাতে এই রোগের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমি প্রায় দুইশত গরুর এই রোগের চিকিৎসা দিয়েছি। এই রোগে আক্রান্ত গরু ভালো হয়ে যাওয়ার পরে গরু যদি জবাই করে তবে তার মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়া যাবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। এই উপজেলায় ছোট বড় মিলে মোট ৩২ হাজার খামারি আছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এই রোগ হলে খামারিদের বেশি সচেতন হতে হবে।

বিশেষ করে আক্রান্ত গরু থেকে যেন নতুন করে এটি ছড়াতে না পারে সে জন্য মশারি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এ ব্যাপারে খামারিকে বেশ সচেতন হতে হবে এবং সরকারি ভেটেনারি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে খুব তাড়াতাড়ি ৫/৬ দিনের মধ্যেই গরু সুস্থ হয়ে যাই বলে যানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/৭সেপ্টেম্বর/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :