জনগণকে নিরপেক্ষভাবে সেবা দিন, কর্মকর্তাদের প্রতি আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৮:৫৯ | প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৮:৪৭

জনগণকে নিরপেক্ষভাবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সেবা দিতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুূলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেছেন, আমরা থানাকে মানুষের সেবা প্রাপ্তির প্রথম ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

মঙ্গলবার সকালে পুলিশের সব মেট্রোপলিটন কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার এবং থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স‌‌‌ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন আইজিপি।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, জাতির পিতার 'জনগণের পুলিশ' হিসেবে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে আমাদেরকে অতীতের ন্যায় অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মানুষ পুলিশের সেবা পেতে প্রথম থানায় আসে। থানার দরজা কখনো বন্ধ হয় না। আমরা থানাকে মানুষের সেবা প্রাপ্তির প্রথম ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

করোনাকালে চরম বিপর্যয়ের সময় মানবিক পুলিশিংয়ের উদাহরণ দিয়ে আইজিপি বলেন, তখন পুলিশ যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদেরকে সেবা দিয়েছে তা জনগণ আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আগামীতেও পুলিশ সদস্যদেরকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সেবার এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ এখন 'রোল মডেল'। জঙ্গিবাদ দমনে আমাদের কার্যক্রম আগামীতে আরও জোরদার করতে হবে।

অপরাধে জড়ানো থেকে বিরত থাকতে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করে আইজিপি বলেন, কিছু পুলিশ সদস্যের বিচ্যুত আচরণের জন্য পুলিশের সম্মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। কোনোভাবেই এমন কাজ করা যাবে না। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজ অথবা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'।

পুলিশপ্রধান বলেন, পুলিশের নিয়োগ-পদোন্নতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ফলে জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে। এখন যে কোনো সময়ের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত। এটা ধরে রাখতে হবে। সবাই মিলে একযোগে কাজ করে বাহিনীর মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে।

পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনেরও নির্দেশ দেন আইজিপি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তথ্য-প্রযুক্তি এবং নিত্যনতুন আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মামলা তদন্তে প্রযুক্তির নির্ভরতা বাড়ানো হবে।

পুলিশ সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কল্যাণের পাশাপাশি শৃঙ্খলাও শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আইজিপি। বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে অনেক এগিয়েছে মন্তব্য করে পুলিশপ্রধান বলেন, ২০৪১ সালের উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব।

আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

পুলিশপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও তিনি স্মরণ করেন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদ সদস্য, সকল মুক্তিযোদ্ধা, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে রাজারবাগে জীবন উৎসর্গকারী বীর পুলিশ সদস্যদের।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) কামরুল হাসান, এসবিপ্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, ডিআইজি (প্রশাসন) খন্দকার লুৎফুল কবিরসহ ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিরা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/০৪অক্টোবর/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রশাসন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :