নগরকান্দায় বেইলি ব্রিজে ভারী যান চলাচল, ফের দুর্ঘটনার শঙ্কা

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদীর ওপর প্রায় তিন যুগ আগে নির্মিত বেইলি ব্রিজের অবস্থা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।ফরিদপুর শহর থেকে মুকসুদপুর যাওয়ার মেইন সড়কের মাঝামাঝি নগরকান্দা পৌর সদর বাজারে ব্রিজটির অবস্থান। যেকারণে প্রতিদিন শতশত ভারী যানবাহনসহ হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্টিলের তৈরি জরাজীর্ণ এই বেইলি ব্রিজটি পার হয়ে গন্তব্যে যাতায়াত করেন। এতে আবারও দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। গতবছর ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর শতাধিক স্থানে জোড়াতালি দিয়ে সেটি মেরামত করে দাঁড় করানো হয়।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ মার্চ বালুভর্তি একটি ট্রাক নিয়ে বহুল আলোচিত এই বেইলি ব্রিজটি নদীতে ভেঙ্গে পড়ে যায়। ২৫ জানুয়ারি ব্রিজটি অপসারণ করে নতুন প্রশস্ত ঢালাই ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীরাসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে জোড়াতালি দিয়ে ব্রিজটি পুনরায় মেরামত করে দিয়ে যায়। তবে এতে আতঙ্ক থেকেই গেছে যানবাহনের চালকদের মধ্যে।
নগরকান্দা পৌরসভার বাসিন্দা বোরহান আনিস বলেন, ঝুকিপূর্ণ ব্রিজটি অপসারণ করে নতুন একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে প্রথমে ঠেলাঠেলি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যে কারণে ব্রিজটি নির্মাণ নিয়ে নানা তালবাহানা শুনেছি। এদিকে ব্রিজটি নড়বড়ে থাকায় সাত টনের বেশি যানবাহন চলাচল না করার একটি নোটিশ টানিয়ে দেয় সড়ক বিভাগ। তারপরেও প্রতিদিন ঝুকি নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মেট্রিক টন মালামাল নিয়েও যানবাহন চলাচল করছে।
নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. বেলায়েত হোসেন জনান, এরশাদের সরকারের সময় ১৯৯২ সালে কুমার নদীর ওপর এই বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে ব্রিজটি জরাজীর্ণ হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে গতবছর ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। তারপর আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে ওখানে একটি ঢালাই ব্রিজ নির্মাণে তৎকালিন স্থানীয় সংসদ সদস্য মাননীয় সংসদ উপনেতা প্রয়াত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর উদ্যোগগ্রহণ করেন। তখন তিনি একটি ডিও লিটারও দেন সংশিষ্ট দপ্তরে। এরই ধারাবাহিকতায় শুনেছি ব্রিজের টেন্ডার হয়েছে। আশা করছি দ্রæত ব্রিজটি আলোর মুখ দেখবে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী মারুফ ইসলাম বলেন, ব্রিজটির পাটাতনের স্টিলের পাতগুলোর জয়েন্ট ছুটে গেছে। এমন অবস্থায় পায়ে হেটে ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করার সময় যদি সাধারন একটি যানও যাতায়াত করে তখন ব্রিজটি কেঁপে ওঠে। মনে হয়, এই বুঝি ভেঙে পড়বে।
নিয়োমিত যাতায়াতকারী বাসচালক আবুল হোসেন ও ট্রাকচালক রবিউল শেখ বলেন, গতবছর ব্রিজটি ভেঙে পড়ার আগ পর্যন্ত তেমন ভয় করত না। কিন্তু এখন ব্রিজের ওপর দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে থাকি, চরম ভয় লাগে। কিন্তু কি করবো যাতায়াত তো করা লাগবেই। তাই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি।
তবে ফরিদপুর সড়ক ও জনপদ (সহজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ব্রিজটির টেন্ডার হয়ে গেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার ওপেন হবে। হয়তো দুই মাসের মধ্যে ব্রিজের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।
(ঢাকাটাইমস/২৭ডিসেম্বর/এআর)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































