কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার

নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. রিপন মিয়া (৩৩) গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪।
র্যাব-১৪ জানিয়েছে, মামলার পর থেকেই রিপন মিয়া পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত চালানো হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে নেত্রকোনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্ত একই এলাকার বাসিন্দা এবং প্রতিবেশী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতির সুযোগ নিয়ে রিপন মিয়া কিশোরীকে ভিডিও তৈরির কথা বলে বিভিন্ন সময় প্রলোভন দেখাতেন এবং কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ৩০ জুলাই রাতে জরুরি কথা আছে বলে কিশোরীকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, র্যাব গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর বিষয়টি প্রথমে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। সেখানে অভিযুক্তের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং তাঁকে এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সালিশের কয়েকটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে রিপন মিয়াকে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।
সালিশের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার সমালোচনা করেন। এরপর ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা করে।
সালিশে উপস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, দরিদ্র পরিবারের অনুরোধে এলাকাবাসী সালিশে বসেছিল। পরে তাঁরা পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেন, তাঁর স্বামী নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে।
পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পান। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’—সংলাপভিত্তিক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয় হন। ২০১৯ সালে খোলা তাঁর ফেসবুক পেজে বর্তমানে ১৯ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































