তারেকের এপিএস অপুর জামিন শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৩, ১৪:৫৭ | প্রকাশিত : ১৪ মার্চ ২০২৩, ১৪:৪৫
কামরুল ইসলাম (ফাইল ফটো)

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) নুরউদ্দিন আহমেদ অপুর অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামিন শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

হাইকোর্টে অপুর জামিনের পক্ষে দাঁড়িয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে মঙ্গলবার শুনানিতে আসেননি তিনি।

এর আগে সোমবার অপুর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতার আইনি লড়াই নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নৈতিকতার প্রশ্ন তোলেন।

আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আমাদের জন্য একটা আদর্শ হওয়া উচিত। আমাদের মধ্যে যারা সিনিয়র আইনজীবী, তারা আমাদের আদর্শগত দিকটা যদি উজ্জ্বল রাখেন, আমরা তাদেরকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে পথ চলি। তাহলে নৈতিকতার মান আরো বাড়বে।’

এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, অপু যে তারেকের পিএস এটা জানা নেই। মামলার কোথাও তো সেটা লেখা ছিল না। তার এক জুনিয়রের আপন ভাইয়ের মামলা, সেই হিসেবে তিনি শুনানি করেছেন।

এদিকে মঙ্গলবার অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মিয়া নূর উদ্দিন অপুর জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী। দুদকের আইনজীবীও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অথপাচার মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান অপু। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আর গত বছরের ২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। ওই জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মতিঝিল সিটি সেন্টারে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ এবং ইউনাইটেড করপোরেশনের অফিসে বিপুল পরিমাণ অর্থ মজুদের অভিযোগ ওঠে। ১৪ ডিসেম্বর র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহমুদুল হাসানের ভাগ্নে এ এম হায়দার আলীকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে তিন কোটি ১০ লাখ ৭৩ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। একই কাজে ব্যবহারের জন্য আরো পাঁচ কোটি টাকা মানিটারি এক্সপ্রেস অফিসে রেখে আসার কথা স্বীকার করেন হায়দার আলী।

ওই ঘটনায় ছয়জনসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়। আসামিরা হলেন এ এম আলী হায়দার নাফিজ, জয়নাল আবেদীন, আলমগীর হোসেন, মিয়া নুরউদ্দিন আহমেদ অপু, আতিকুর রহমান আতিক ও মাহমুদুল হাসান। পরে অভিযোগপত্রে ছয়জনের সঙ্গে ফয়েজুর রহমানের নাম যুক্ত করা হয়।

আসামি নুরউদ্দিন আহমেদ অপু তারেক রহমানের পিএস ও শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন।

এই মামলায় ২০২১ সালের ১৩ জুন সাতজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় র‍্যাব। একই বছর ১২ আগস্ট মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়। ট্রাইব্যুনাল ২২ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে পলাতক তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

২০১৯ সালের ৪ জানুয়ারি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকে অপু কারাগারে আছেন। এ দুই মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হলে হাইকোর্টে এসে জামিন চান অপু।

(ঢাকাটাইমস/১৪মার্চ/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :