বিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রেমিকের সামনে দলবদ্ধ ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর
| আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ২১:১৭ | প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ১৮:০৭

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে তুলে নিয়ে প্রেমিকের সামনে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের শিকার ওই নারী এখন হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। এ ঘটনায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে বুধবার রাতে থানায় মামলা হয়েছে।

মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় চিরিরবন্দর উপজেলা শহরের তেলীপুকুর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রেমিক চিরিরবন্দর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তিনি মামলার সাক্ষী হয়েছেন।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর (১৮)। বাড়ি চিরিরবন্দর উপজেলার খালপাড়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায়। তার পিতা রবিউল ইসলাম। ছোট বোনের এই ঘটনায় বড় বোন সালমা আক্তার থানায় মামলা করেছে। ধর্ষণের শিকার নারীর প্রেমিক মাসুদ রানা (২৪) পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া এলাকার বাসিন্দা।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু ওই ভিকটিম জানান, মাসুদ রানার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মঙ্গলবার সকালে মাসুদ রানা পঞ্চগড় থেকে চিরিরবন্দরে তাদের বাসায় আসে। রওশন আরার মা-বাবার কাছে বিয়ের কথা জানায়। কিন্তু মেয়ের পরিবার এ বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় রাত সাড়ে ৯টায় মাসুদের হাত ধরে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে চিরিরবন্দর রেলস্টেশনে আসে। পঞ্চগড় আসার কোনো ট্রেন না পাওয়ায় হাঁটার পথে উপজেলার ঘুঘরাতলী এলাকায় বটগাছের নিচে বসে ইজিবাইকের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। স্টেশন থেকে দুটি ছেলে তাদেরকে অনুসরণ করে তাদের পিছু নেয়। রাত ১০টায় পিছু নেওয়া ছেলে দুটি ঘুঘরাতলীতে এসে তাদের গন্তব্যের কথা জানতে চায়। ওই দুইজন ছেলের মধ্যে একজন হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলীম সরকারের ছেলে নুর আলমের গাড়ির চালকের ছোট ভাই মোবিন (২০)। ঘটনাস্থলে তাদের সঙ্গে যোগ হয় আরও তিনজন (মাস্ক পরিহিত) সব কথা শুনে মোবিন তাদের বলেন, ‘তোমরা পালিয়ে যাচ্ছ কেন? তোমরা যদি বিয়ে করতে চাও আমরা সেই ব্যবস্থা করবো। এখানে আমাদের সভাপতির ছেলে আছে, আমরা বিষয়টা ওনাকে জানিয়েছি। তোমরা চলো আমাদের সাথে।’ জবাবে ভিকটিম তাদের বলেন, ‘ভাইয়া আমরা তো বিয়ে ম্যানেজ করেই ফেলছি, আমরা নিজের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারি।

আপনারা তো আইনের লোক না। আমাদেরকে কী হেল্প করবেন।’

এ কথা শুনে তাদেরকে মারধর শুরু করে তারা। পরে একটা ভ্যানে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে তাদের মুঠোফোন কেড়ে নেন। পরে তাদেরকে এলএসডি (খাদ্য গোডাউন) সংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবন (নুর আলমের আত্মীয়ের বিল্ডিং) এ নিয়ে যান। সেখানে উভয়কে মারধর করে মাসুদকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে তার প্রেমিকাকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রওশন আরাকে ধাক্কা দিলে সে ধানক্ষেতে পড়ে যায়। তার পা থেঁতলে হয়ে যায়। এ সময় সবাই ধানক্ষেতে নেমে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

ভিকটিম আরও বলেন, মোমিনকে আমি দেখেছি। বাকিরা মাস্ক পরা ছিলো। নুর আলমের কথা বলে আমাকে নিয়ে গেছে। ফোনে কাকে যেন বলছিল ভাই আপনি আসেন, আমরা নিয়ে আসছি, কাজ হবে।’

পরে পাশের একটি ধানক্ষেতে শুইয়ে রেখে ভিকটিমকে তার ফোনটি দিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়ি চলে যেতে বলে।

পরে বিষয়টি অবহিত করে প্রেমিক মাসুদ রানা জরুরিসেবা ৯৯৯ এ ফোন দেন। পুলিশ রাত আড়াইটায় ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিম ও প্রেমিক মাসুদ রানাকে ‍উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. বজলুর রশিদ বলেন, ৯৯৯ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়ের বোন সালমা আক্তার বাদি হয়ে বুধবার রাত পৌনে ১০টায় চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৬। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের শনাক্তপূর্বক গ্রেপ্তারের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/১৬নভেম্বর/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :