টাঙ্গাইল-৮

হাতে নগদ টাকা নেই, নির্বাচনের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় জাকের পার্টির প্রার্থী

সখিপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৭:১৮

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল- (সখিপুর-বাসাইল) আসনে জাকের পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন স্থানীয় মাছ বিক্রেতা আব্দুল জলিল। দলের কাছে মনোনয়ন না চাইলেও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রার্থী হয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন প্রার্থী। দুই উপজেলায় প্রচারণা চালাতে তার কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। অথচ এই মুহূর্তে তার হাতে কোনো নগদ টাকা নেই। ব্যাংকে আছে মাত্র হাজার টাকা। ফলে নির্বাচনের ন্যূনতম খরচ চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জাকের পার্টির প্রার্থী।

শুক্রবার বিকালে তিনি দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন।

আব্দুল জলিল উপজেলার বৈলারপুর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে এবং উপজেলা জাকের পার্টির অঙ্গ সংগঠন মৎস্যজীবী ফ্রন্টের সভাপতি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, এই আসনের সাতটি রাজনৈতিক দলের সাতজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছায়ের পর সকল প্রার্থী বৈধ হয়েছেন। প্রার্থীরা হলেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, আওয়ামী লীগের অনুপম শাহ্জাহান জয়, জাতীয় পাটির রেজাউল করিম, তৃণমূল বিএনপির পারুল আক্তার, বিকল্প ধারার আবুল হাশেম, জাকের পার্টির আব্দুল জলিল বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোস্তফা কামাল।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বিধি মোতাবেক একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। অথচ আব্দুল জলিল নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় বাৎসরিক আয় উল্লেখ করেছেন লাখ ৪০ হাজার টাকা। একইসঙ্গে ব্যয়ের খাতেও উল্লেখ করেছেন সমপরিমাণ টাকা। ফলে তার হাতে কোনো নগদ টাকা নেই।

কীভাবে নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহ করবেন জানতে চাইলে আব্দুল জলিল বলেন, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে লাখ টাকা ধার করবো। আমার একটি পুকুর রয়েছে, সেই পুকুরের মাছ বিক্রি করলে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এই আড়াই লাখ টাকা দিয়েই নির্বাচন চালাতে হবে। তবে এত অল্প টাকায় নির্বাচন শেষ করা তার জন্য খুবই কষ্টকর হবে বিধায় দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

দল থেকে আপনাকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা করবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল জলিল না সূচক উত্তর দেন।

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, অনেকে ৫০ বছর রাজনীতি করেও দলীয় মনোনয়ন পাননি। আর আমি চাওয়ার আগেই পেয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি অবশ্যই নির্বাচিত হব।

আব্দুল জলিল আরও বলেন, আমি পড়াশোনা করিনি। শুধু নাম দস্তখত করতে পারি। আমি লোক মুখে শুনেছি অনেক অশিক্ষিত লোকও জনগণের ভোটে এমপি হয়েছে। জনগণ ভোট দিলে এমপি হওয়া অসম্ভব কিছু না। সব দয়ালের ইচ্ছা। এমপি নির্বাচিত হলে মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন প্রার্থী।

উপজেলার বৈলারপুর গ্রামের বিএনপির সাবেক নেতা শরিফ পাপ্পু বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে রাজনীতি করছি, এমপি তো দূরের কথা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার সাহসও পাইনি। তবে জলিলের মনোনয়ন পাওয়াকে গ্রামের জন্য সৌভাগ্যের বলে মন্তব্য করেন বিএনপির নেতা।

উপজেলা জাকের পার্টির সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমি দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর আর কোনো কমিটি হয়নি। সখিপুরে এখন জাকের পার্টি অনেকটা নিষ্ক্রিয়। দলের প্রার্থী আব্দুল জলিলকে আমি চিনি না। কখনো দেখেছি বলে মনে হয় না। তবে বিষয়ে বেশি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/০৯ডিসেম্বর/প্রতিনিধি/পিএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সারাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :