প্রিজন সেলে আসামি খুন, তিন কারারক্ষীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল ব্যুরো, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১৯:২৪
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেল (ছবি: সংগৃহীত)।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের প্রিজন সেলে এক আসামির হাতে আরেক আসামি খুন হওয়ার ঘটনায় তিন কারারক্ষীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহত মোতাহার হোসেনের মেয়ে নাসরিন আক্তার বৃহস্পতিবার বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।

বিচারক নালিশি মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী আলাউদ্দিন হাওলাদার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন, মোতাহার হোসেনের উপর হামলাকারী গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মোশারেফ সিকদারের ছেলে তরিকুল (২৫) বরগুনার বেতাগীর বাসিন্দা নজরুল ইসলাম (৪৭), মোস্তফা হাং (৫০), মো. ফারুক (৫৫), সফিকুল ইসলাম (২৮), নাসির উদ্দিন হাং (৩৫), জাহাঙ্গীর হাং (৪০) কামাল হাং (৫৫)

এছাড়া আসামি করা তিন কারারক্ষী হলেন, . সালাম মিরাজসহ নাম না জানা একজন কারারক্ষী। মামলায় আরও - জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহত মোতাহার হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জাহিদ অভিযোগ করে বলেন, বরগুনার বেতাগীতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই দ্বন্দ্বের জেরে বেতাগী থানায় প্রতিপক্ষরা আমার বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলায় আমার বাবাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। সম্প্রতি তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরগুনা কারাকর্তৃপক্ষ তাকে বরিশাল কারাকর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করে। বরিশাল কারাকর্তৃপক্ষ তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করার পর তিনি শেবাচিম হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিছুদিন আগে প্রিজন সেলের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষী মিরাজসহ অন্যরা আমার বোন নাসরিনের কাছে টাকা দাবি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাহিদ আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে আমাদের পারিবারিক শত্রু নজরুল, মোস্তফা ও শফিকসহ কয়েকজন শেবাচিমের প্রিজন সেলের সামনে হাঁটাহাঁটি করে আমার বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল বিষয়টি আমার বাবা আমাকে জানিয়েছিলেন। আমার বাবাকে হত্যা করতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কারারক্ষীদের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক শত্রুরা পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অংশ হিসেবে প্রিজন সেলের কারারক্ষীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আরেক আসামিকে দিয়ে আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি। তাই আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বাদীর আইনজীবী আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, বিচারক নালিশি মামলাটি গ্রহণ শেষে বাদীর জবানবন্দিও গ্রহণ করেছেন। তদন্তের জন্য মামলাটি বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নোটিশ পাঠিয়েছে আদালত। যেহেতু ঘটনায় আগেই কারাকর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। তাই নিহত মোতাহার হোসেনের মেয়ের দায়ের করা মামলাটি আগের মামলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে একক মামলা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নতুন দায়ের করা মামলার তদন্তে যাদের নাম বেরিয়ে আসবে তাদেরও প্রথম মামলার আসামি হিসেবে যুক্ত করা হবে।

প্রসঙ্গত, রবিবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে শেবাচিম হাসপাতালের নিচতলার প্রিজন সেলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় মোতাহার হোসেনকে। তিনি বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাউনিয়া গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে। বরগুনার একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন মোতাহার।

(ঢাকাটাইমস/১৮এপ্রিল/প্রতিনিধি/পিএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সারাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :