সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৯
অ- অ+

সারা দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সংগঠনটি জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সমিতিটি। নোটিশে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে বাংলাদেশের সব এলপিজি বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সব কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হবে।

এর আগে কমিশন বৃদ্ধি, জরিমানা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। দাবি মানা না হলে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, “বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। বেলা তিনটায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়া হলে বিক্রি শুরু হবে, না হলে বন্ধই থাকবে।”

সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজির দাম নিয়ে নৈরাজ্যের অভিযোগের মধ্যেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে সংগঠনটি দাবি করে, বর্তমানে দেশে এলপিজির সংকটময় পরিস্থিতি চলছে। ২৭টি কোম্পানির সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার বাজারজাত করা হলেও মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে রিফিল হচ্ছে। বাকি ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে।

তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, “এলপিজি পরিবেশকরা আমাদের লাইসেন্সি নন। ফলে আইনগতভাবে তাদের দাবি সরাসরি আমলে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রস্তাব আসতে হবে লাইসেন্সি বা আমদানিকারকদের কাছ থেকে। তারা আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে গণশুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এদিকে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই। বাজারে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা মূলত কারসাজির ফল। বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করছে এবং বিভিন্ন স্থানে জরিমানাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশক সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিইআরসি পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এলপিজির মূল্য সমন্বয় করেছে। সংকট নিরসনের পরিবর্তে বাড়তি দামের বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে এবং ভোক্তা অধিকার অভিযান চালিয়ে পরিবেশকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়।

সংগঠনটির দাবি, পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুনভাবে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে হবে এবং প্রশাসনের মাধ্যমে হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

(ঢাকাটাইমস/০৮ জানুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
থানাকে দালালমুক্ত রাখতে হবে: ডিএমপি কমিশনার
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হলেন সাখাওয়াত হোসেন
গুরুতর অসুস্থ সোনু নিগম
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা