কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬, আহত ৪১

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ঢাকা-ট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি ও ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪১ জন। শুক্রবার ও বৃহস্পতিবার রাতে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোতে একটি ঘটনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাস, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী সিডিএম পরিবহনের একটি বাস দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় একটি মোটরসাইকেল ও একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষের পরপরই তিনটি যানেই আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করলে বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ কমে যায়। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ চারজন বাসের ভেতরেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।
এই অগ্নিদুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— দাউদকান্দি উপজেলার পূর্বপেন্নাই গ্রামের শামীমের ছেলে নাদিফ (৬), একই গ্রামের শামসুল আলমের ছেলে শামীম (৪২), নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার মাঝেরচর গ্রামের সুমনের ছেলে হোসাইন (২) এবং আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত নারী।
এ ঘটনায় অন্তত ছাব্বিশ জন আহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার। আহতদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বিবেচনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর এরশাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। ওই সময় বানিয়াপাড়া দরবার শরিফের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল উপলক্ষে পাশের জমিতে অসংখ্য শ্রমিক কাজ করছিলেন। আগুনের তীব্রতার কারণে তারা সরাসরি উদ্ধার কাজে যেতে না পারলেও ফায়ার সার্ভিসকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। নিহত শিশু হোসাইনের মা শাপলা আক্তার আগুনের মধ্যেই বাসের ভেতর থেকে সন্তানকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। আগুনের তীব্রতায় ব্যর্থ হয়ে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এদিকে, এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে দশটার দিকে মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ থানার তীরচর এলাকায় ফেনী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে বাসের যাত্রী আরমান বয়স (১৭) এবং সাইদুল হক মজুমদার (৩৪) ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওই দুর্ঘটনায় আরও পনের জন আহত হন বলে জানান হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন।
দুটি দুর্ঘটনার পর পুড়ে যাওয়া বাস, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা হাইওয়ে পুলিশ ডাম্পিং করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান।
(ঢাকা টাইমস/০৯জানুয়ারি/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































