বাউল রশিদ উদ্দিনের গান লুটের শেকড়সন্ধানী কাহিনী নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ‘ভাটিবাংলার অধিরাজ’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৮
অ- অ+

ভাটিবাংলার বিস্মৃতপ্রায় বাউল সাধক কবি রশিদ উদ্দিনের গান লুটের শেকড়সন্ধানী কাহিনী নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন লেখক, পর্যটক, নাট্যকার, পরিচালক ও স্থপতি শাকুর মজিদ। ‘ভাটিবাংলার অধিরাজ’ শিরোনামের এই প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে বাউল রশিদ উদ্দিনের জীবন, সাধনা ও তাঁর সৃষ্ট গানের প্রকৃত অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।

‘এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া’ কিংবা ‘শুয়াচান পাখি আমি ডাকিতেছি তুমি ঘুমাইছো নাকি’—এমন অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগান সময়ের প্রবাহে অন্যদের নামে প্রচারিত হলেও এর প্রকৃত রচয়িতা বাউল রশিদ উদ্দিন। এই ঐতিহাসিক অবিচার অনুসন্ধান ও সংশোধনের লক্ষ্যেই প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান নির্মাতা শাকুর মজিদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর ভিউ ফাইন্ডার কার্যালয়ে ‘ভাটিবাংলার অধিরাজ’ প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

ভাটিবাংলার লোকসংগীতের এক কিংবদন্তি সাধক বাউল কবি রশিদ উদ্দিনের জন্ম ১৮৮৯ সালের ২১ জানুয়ারি, নেত্রকোণার বাহিরচাপড়া গ্রামে। তিনি ছিলেন ভাটিবাংলার বহু প্রখ্যাত বাউলের ওস্তাদ। শাহ আব্দুল করিম, উকীল মুন্সি, জালাল খাঁসহ অনেক খ্যাতিমান শিল্পী ছিলেন তাঁর প্রত্যক্ষ শিষ্য।

নির্মাতা শাকুর মজিদ জানান, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বাহিরচাপড়া গ্রামে রশিদ উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে লেখা পুরনো পাণ্ডুলিপি দেখার সুযোগ পান তিনি। সে সময় উত্তরাধিকারীরা জানান, বিভিন্ন সময়ে রশিদ উদ্দিনের বহু গান নিয়ে গিয়ে নাম পরিবর্তন করে অন্যরা নিজেদের নামে প্রচার করেছেন। ফলে বহু জনপ্রিয় লোকগানের প্রকৃত স্রষ্টা আজও সাধারণ মানুষের কাছে অজানা রয়ে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটেই নির্মিত হয়েছে ‘ভাটিবাংলার অধিরাজ: বাউল কবি রশিদ উদ্দিনের অধিকারহীনতার সন্ধানে’। প্রামাণ্যচিত্রটিতে তাঁর জীবন ও সাধনা, শিষ্য-পরম্পরা, হারিয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি, গানের বিকৃতি, ভ্রান্ত ক্রেডিট এবং উত্তরাধিকারীদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে তথ্যভিত্তিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে।

আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬, বাউল রশিদ উদ্দিনের ১৩৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রামাণ্যচিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নির্মাতা শাকুর মজিদ বলেন, “যাঁর গানে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভাবজগৎ গড়ে উঠেছে, সেই মানুষটি আজ ইতিহাসের আড়ালে। তাঁকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি ফিরিয়ে দেওয়াই এই প্রামাণ্যচিত্রের মূল উদ্দেশ্য।”

উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, গবেষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি এই উদ্যোগকে আরও অর্থবহ করে তোলে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আনসার-ভিডিপির কৃতি ২৩ খেলোয়াড়কে সংবর্ধনা
জিও নিউজের সম্প্রচার স্থগিত
শিক্ষাছুটি শেষে না ফেরায় গোবিপ্রবির ১৬ শিক্ষক চাকরিচ্যুত
সিআইডিপ্রধান হলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা