২০২৫ সালে ঢাকার সড়কে ৪০৯ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ২১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩২
অ- অ+

২০২৫ সালে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে মোট ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫১১ জন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ১৭৬ জন (৮০.৩৬ শতাংশ), নারী ২৫ জন (১১.৪১ শতাংশ) এবং শিশু ১৮ জন (৮.২১ শতাংশ)।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে পথচারী ছিলেন ৪৭.০৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৪৩.৩৭ শতাংশ এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালক ও আরোহী ছিলেন ৯.৫৮ শতাংশ।

দুর্ঘটনার সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভোরে ঘটেছে ১১.২৪ শতাংশ দুর্ঘটনা, সকালে ১৮.৩৩ শতাংশ, দুপুরে ৯.৫৩ শতাংশ, বিকেলে ১৩.৪৪ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৫.৮৬ শতাংশ এবং রাতে সর্বোচ্চ ৪১.৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

যানবাহনভিত্তিক হিসাবে দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল বাস ২৪.৮৭ শতাংশ, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাক ৩৫.১৪ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২১.৫৩ শতাংশ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জীপ ৪.১২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা, সিএনজি, লেগুনা) ১১.৮২ শতাংশ এবং রিকশা ২.৪৮ শতাংশ।

সড়ক দুর্ঘটনার সার্বিক চিত্র বিশ্লেষণ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে রাত ও সকালে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর বাইপাস সড়ক না থাকায় রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ভারী মালবাহী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এতে রাস্তা পারাপারের সময় পথচারীরা বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি দীর্ঘ যানজটের কারণে চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর এলাকা বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে বিভিন্ন গতির যান চলাচল, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত ফুটওভার ব্রিজ, সড়ক সাইন ও মার্কিংয়ের অভাব, সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা এবং সড়ক ও যানবাহনে চাঁদাবাজি।

দুর্ঘটনা কমাতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, বাসের জন্য আলাদা লেন চালু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করা, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন উন্নয়ন, যথাস্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, বহুতল পার্কিং স্থাপন, রেল ক্রসিংয়ে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণ, রাজধানীর চারপাশে বাইপাস সড়ক তৈরি, সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানো এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা।

(ঢাকাটাইমস/২১ জানুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পদোন্নতি না পেয়ে পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলী আকবর?
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি
ডিবি উত্তরা বিভাগের ডিসি হলেন ইলিয়াস কবির
ঢাকার সড়কে এআই নজরদারিতে এক মাসে ৬৭২ মামলা, মোট জরিমানা প্রায় ৯ কোটি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা