সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফ্লেক্স’ সংস্কৃতি: দেখানোর প্রতিযোগিতায় তরুণ সমাজ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিন দিন বাড়ছে ‘ফ্লেক্স’ করার প্রবণতা। নতুন মোবাইল ফোন, বিলাসবহুল গাড়ি, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা দামি খাবারের ছবি পোস্ট করে নিজের অবস্থান জাহির করাকে এখন অনেকেই ‘ফ্লেক্স’ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে এই প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফ্লেক্স’ (Flex) সংস্কৃতি হলো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের দ্বারা নিজেদের সম্পদ, বিলাসিতা, সাফল্য বা জীবনযাত্রার প্রদর্শনী। ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে দামী ব্র্যান্ড, ভ্রমণ, বা অর্জনের ছবি/ভিডিও শেয়ার করে এই সংস্কৃতিতে বাহবা বা সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা প্রায়শই বাস্তবতাহীন এবং অন্যের মনে হীনম্মন্যতা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ফ্লেক্স’ শব্দটি মূলত নিজের সাফল্য বা সম্পদ অন্যদের সামনে প্রদর্শনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে অনেকেই বাস্তব জীবনের চেয়ে বেশি সাজানো জীবন তুলে ধরছেন, যা মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে অন্যদের মধ্যে।
ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফি বলেন, “অনেকে শুধু লাইক আর কমেন্ট পাওয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফ্লেক্স করে। এতে এক ধরনের অদৃশ্য প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।”
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিরিক্ত ‘ফ্লেক্স’ করার প্রবণতা আত্মমর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, বাস্তব জীবনের সাফল্যকে নীরবে উপভোগ করাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি স্বাস্থ্যকর।
তবে অনেকে মনে করেন, সীমিত পরিসরে নিজের অর্জন শেয়ার করাটা দোষের নয়। সমস্যা তখনই, যখন ‘ফ্লেক্স’ অন্যকে ছোট করা বা চাপের মুখে ফেলার মাধ্যম হয়ে ওঠে।
(ঢাকাটাইমস/২৭ জানুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













