নীরব ঘাতক রোগ হাইপোগ্লাইসেমিয়া, সতর্ক থাকবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৮| আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭
অ- অ+

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক জটিলতাগুলোর একটি হলো হাইপোগ্লাইসেমিয়া। রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ স্বাভাবিকের নিচে নেমে গেলে এ অবস্থা তৈরি হয়, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণে না আনলে অচেতনতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা প্রতি লিটারে ৪ মিলিমোলের (প্রতি ডেসিলিটারে ৭০ মিলিগ্রাম) নিচে নেমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। সাধারণভাবে খালি পেটে রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রা ৬.১ মিলিমোল প্রতি লিটার এবং খাবারের দুই ঘণ্টা পর ৭.৮ মিলিমোল প্রতি লিটার থাকা উচিত।

চিকিৎসকরা বলছেন, বিশেষ করে টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন-নির্ভর রোগীদের ক্ষেত্রে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বেশি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস আক্রান্তদের বড় একটি অংশ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার শুরুতে হাত-পা কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম, বুক ধড়ফড় করা, অস্থিরতা, মাথাব্যথা, চোখ ঝাপসা হয়ে আসা, মেজাজ খারাপ হওয়া কিংবা দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। রক্তে শর্করা আরও কমে গেলে রোগী অসংলগ্ন কথা বলতে পারেন, অর্ধচেতন বা সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়তে পারেন। গুরুতর অবস্থায় খিঁচুনি এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন, হঠাৎ অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কায়িক শ্রম, অ্যালকোহল গ্রহণ, কিডনি ও যকৃতের জটিলতা—এসব কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে স্নায়ুর অনুভূতি কমে যাওয়ায় অনেক সময় উপসর্গ না-ও টের পাওয়া যেতে পারে, যা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তা সম্ভব না হলে সঙ্গে সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ গ্রাম গ্লুকোজ গ্রহণ করতে হবে। এক গ্লাস পানিতে আড়াই থেকে তিন চামচ চিনি গুলে পান করা, মিষ্টি, ক্যান্ডি বা চিনি মেশানো জুস খাওয়া যেতে পারে। ১৫ মিনিট পর আবার গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হবে। তবে রোগী যদি অচেতন হয়ে পড়েন, সে ক্ষেত্রে মুখে কিছু খাওয়ানো যাবে না। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে শিরায় গ্লুকোজ দেওয়াই একমাত্র উপায়।

সেরে ওঠার পর কেন হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। খাদ্যাভ্যাসে শৃঙ্খলা আনা, দিনে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার খাবার খাওয়া, ঘুমের আগে হালকা খাবার গ্রহণ এবং ইনসুলিন বা ওষুধের মাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সমন্বয় করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ মানুষের যকৃতে গ্লুকোজের মজুত থাকায় সাধারণত হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয় না। তবে যকৃতের গুরুতর রোগ, হরমোনজনিত সমস্যা বা বিরল কিছু টিউমারের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস না থাকলেও হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাইপারগ্লাইসেমিয়ার তুলনায় হাইপোগ্লাইসেমিয়া অনেক বেশি বিপজ্জনক। সচেতনতা ও সময়মতো ব্যবস্থা নিলেই এই নীরব ঘাতক থেকে প্রাণরক্ষা সম্ভব।

(ঢাকাটাইমস/১০ ফেব্রুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সৌদির আরামকো তেল স্থাপনায় আগুন
শ্রীপুর হাসপাতালে দেশি অস্ত্রসহ মোটরসাইকেল জব্দ, বিন্দুবাড়ির সংঘর্ষে আহত ২০
সরকার পেঁয়াজ আমদানি করেনি, আগামীতেও করতে হবে না: কৃষিমন্ত্রী
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের আপসহীন জনপ্রিয় নেতা: ভূমিমন্ত্রী