দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবি: রাইয়ানসহ একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
  প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৬
অ- অ+

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী রাইয়ানসহ একই পরিবারের তিন সদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষে আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাইয়ানের মরদেহ শনাক্ত করেন তার স্বজন ও সহপাঠীরা।

আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন দক্ষ বিতার্কিক। স্কুল জীবন থেকেই জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও যুক্ত ছিলেন বিতর্কচর্চায়। যুক্তি, বুদ্ধি আর সচেতনতার আলো ছড়ানোই ছিল তার স্বপ্ন।

রাইয়ান শুধু একজন শিক্ষার্থীই ছিলেন না, ছিলেন একজন সচেতন নাগরিক। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ নানা সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা আর সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাই ছিল তার জীবনের লক্ষ্য।

ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি এসেছিলেন রাইয়ান। পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটিয়ে আবার ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মা রেহানা আক্তার, চিকিৎসক বোন ডা. নুসরাত জাহান খান এবং বোনের ৮ বছর বয়সী ছেলে তাজবিদকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।

গতকাল বুধবার বিকালে রাজবাড়ী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠেন তারা। কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। পন্টুনে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। সে সময় বাসের ভেতরেই ছিলেন রাইয়ান, তার মা, বোন ও বো‌নের ছে‌লে। সৌভাগ্যক্রমে রাইয়ানের বোন ডা. নুসরাত জাহান খান জীবিত বের হতে পারলেও মা রেহানা আক্তার ও ছোট্ট তাজবিদের সঙ্গে সলিল সমাধি হন রাইয়ান। দুর্ঘটনার রাতেই মরদেহগুলো বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পুরো বাড়িজুড়ে এখন শুধুই কান্না আর শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

পারিবারিক এই শোক যেন থামছেই না। মাত্র কয়েক মাস আগেই হারিয়েছেন বাবাকে। গত ডিসেম্বরেই মারা যান রাইয়ানের বাবা। সেই শোক কাটতে না কাটতেই আবার এমন নির্মম আঘাতে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি।

শিক্ষার্থী রাজিয়া বলেন, ‘রাইয়ান ভাইয়ের সঙ্গে আমি ক্লাস ফাইভ থেকে বিতর্ক সংগঠনে যুক্ত ছিলাম। তিনি খুব স্বপ্নবাজ মানুষ ছিলেন, সবসময় বড় কিছু করার কথা বলতেন। আজ তাকে হারিয়ে আমরা বাকরুদ্ধ। এই মৃত্যুর জন্য দেশের অব্যবস্থাপনাই দায়ী।

রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক উদ্দিন বলেন, ‘রাইয়ান একজন মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণ ছিল। সে অর্থনীতিবিদ হতে চেয়েছিল। জাতীয় পর্যায়ে নিয়মিত বিতর্ক করত। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সে অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। তার এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

একটি সম্ভাবনাময় জীবন, একটি পরিবারের স্বপ্ন- সবকিছুই যেন মুহূর্তেই থেমে গেল দৌলতদিয়ার সেই দুর্ঘটনায়। রাইয়ানের মতো আরও অনেকেই হারিয়ে গেছেন তাদের আপনজনদের ছেড়ে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকাকে শোকাহত করেছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঈদুল আজহা যাত্রায় ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১ জন
কানাডায় পরিবার, ঢাকায় একা জীবন: মিরপুরে মিলল আরেক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ
যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, সভাপতি মুন্না, সম্পাদক নয়ন
বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ ৪ কমিশনারের পদত্যাগ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা