কবিতা
সময়ের তেলেসমতি ডুগডুগি

আমাকে আর বলোনা তো সোনাঝরা সময়ের আঁচল ধরে
প্রাপ্তির ডুগডুগি বাজিয়ে সঙয়ের মতো হাঁটতে,
দয়া করে খানিক ফরসুত দাও;
মাটির সোঁদা গন্ধকে বৃষ্টি ফোঁটার মতো
আদুরে পরশে চুক চুক করে চাটতে।
.
রঙচটা লিপস্টিক পাণ্ডুর ঠোঁটে লেপ্টে রাখা
‘সময় বাইজি’ রুমঝুম পায়েল আর
মদিরার পেয়ালার মজমায় লুটে নেয়
যে খান্দানি খদ্দেরদের মুক্তোর মালা,
তাঁরাই নিন্দাবাদের শুকনো ঠোঁটে ঝুলিয়ে দেয়
রাজ-ফরমানের চাবিহারা তালা;
কিংবা বাকযন্ত্রে এঁটে দেয় সুপার গ্লুর সিলগালা।
তাদের চলার ছন্দে, তালের সংগতে, লয়ের নৈপূণ্যে
পড়ে না নীতিবোধ অথবা বিধানের হাতুড়ির ছেদ,
বরং এ উত্তাল উর্মির মুখোমুখি সিন্দাবাদের মতো দাঁড়ায় যে সাহসী নাবিক,
নিয়তি নির্দিষ্ট হয় সেই অকুতোভয়ের অকাল উচ্ছেদ।
আমার হন্তারককে আর কোথায় খুঁজতে যাবে এধারে, ওধারে?
আমাকে নিধনের দায় বরং চাপিয়ে দাও আমারি ঘাড়ে।
ওরা লুটে নিচ্ছে ঝাটকাসহ পদ্মার সবগুলো রূপোলি ইলিশ,
সবগুলো ঝর্ণাধারায় ওরা ছড়িয়ে দিচ্ছে নাগিনীর অব্যর্থ বিষ।
.
তাই বলি, হালের দশার দাশেরা যে যেমন খুশি
আমাকে সময়ের স্রোতের প্রতিকূলে সাঁতরানো
নিতান্ত নির্বোধ ভাবুক,
তবুও আমাকে চালাতে দাও আমার নিজের পিঠে
মর্ম বেদনা আর আত্মগ্লানির
আশি ঘায়ের দোররা চাবুক।
কনকনে শীতের সকালে আমাকে উদোম পিঠে পোহাতে দাও ওম ওম সোনা রোদ্দুর,
চিনির মিহি গুঁড়ার শহুরে মিষ্টি শরবতের বদলে
আমার পাতে তুলে দাও অশিষ্ট গ্রাম্যতার
খেজুর রসের গুঁড়।
আমার গায়ের চামড়াকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দিক কাঠফাটা রোদের মধ্য দুপুর,
আমার গলায় চালাতে দাও অবিশ্বস্ত নাপিতের ইস্পাত ধারের ক্ষুর।
সময়ের চতুর আঁচল ছেড়ে আমাকে লুকোতে দাও আমার হাবাগোবা মায়ের আটপৌরে শাড়ির নিরাপদ আঁচলে,
নদীভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যাওয়া আমার মাথা গুঁজবার ঠাঁই নিরুদ্দেশে ভেসে যেতে দাও অশ্রুবানের জলে।
আমার বসত ভিটায় চড়ে বেড়ানো ঘুঘুদের ঝাঁকে
ছিটিয়ে দাও তোমাদের মতলবের মুঠো মুঠো বুজরুকি ধান,
তারপরও যদি হাড় না জুড়ায়;
আমার নিথর শয্যাপাশে জ্বালিয়ে দিও
তোমাদের ঈর্ষার নিষিদ্ধ লোবান।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































