শিশু রামিসা হত্যা মামলার ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ, আজ আদালতে চার্জশিট

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক প্রতিবেদনে মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রধান আসামি সোহেল রানার সংশ্লিষ্টতাও নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফরেনসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রামিসাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করে আজ রবিবার আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে।
এর আগে শনিবার (২৩ মে) শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট ডিএনএ রিপোর্ট সরবরাহ করে। একই সঙ্গে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনও তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানান, ফরেনসিক রিপোর্টে স্পষ্টভাবে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের তথ্য উঠে এসেছে। তিনি বলেন, অভিযোগপত্র জমার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতে তা দাখিলের চেষ্টা চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের লক্ষ্যে কাজ চলছে। বর্তমানে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদুল আজহার পর শুরু হবে। দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মামলাটি পরিচালনার জন্য আইন মন্ত্রণালয় বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু-কে নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে তিনি মামলাটি পরিচালনা করবেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিচার দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। মামলাটির তদন্ত দ্রুত শেষ করে বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
(ঢাকাটাইমস/২৪ মে/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































