গাজীপুরের পূবাইলে ১০ ফুট লম্বা ডাটা শাখ উৎপাদন কৃষক ফেরদৌসের বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়

গাজীপুর মহানগরীর ৪১ নং ওয়ার্ডের পূবাইলের সাপমাড়া এলাকার কৃষক ফেরদৌস মিয়া আবারও আলোচনায় এসেছেন তার ব্যতিক্রমী কৃষি উদ্যোগের কারণে। প্রায় ১০ ফুটেরও বেশি লম্বা ডাটা শাক চাষ করে তিনি এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। বিশাল আকৃতির প্রতিটি ডাটা শাক তিনি বিক্রি করছেন ১০০ টাকা করে।
ব্যতিক্রমী এই ফসল দেখতে ও কিনতে প্রতিদিনই তার বাগানে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
টানা কয়েক বছর পেঁপে চাষে সাফল্য অর্জনের পর গত বছর বৈরী আবহাওয়া ও বীজ নির্বাচনে ভুলের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন ফেরদৌস মিয়া। প্রায় ৫০০টি পেঁপের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তিনি নতুন ফসল চাষের পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবার বিভিন্ন সবজির পাশাপাশি বিশেষ জাতের ডাটা শাক চাষ করেন, যা অস্বাভাবিকভাবে বড় আকার ধারণ করে এবং বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
ফেরদৌস মিয়ার কৃষি কার্যক্রমের আরেকটি বড় মাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ‘সৌখিন কৃষক’ নামের তার ফেসবুক পেজে নিয়মিত কৃষিবিষয়ক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষামূলক ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমানে পেজটির অনুসারী সংখ্যা দুই লাখেরও বেশি। সম্প্রতি তার বিশাল আকৃতির ডাটা শাকের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার বাগানে আসতে শুরু করেন।
প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দর্শনার্থীরা বাগানে এসে ডাটা শাক দেখছেন, কিনছেন এবং তার চাষ করা অন্যান্য ফসল সম্পর্কেও খোঁজখবর নিচ্ছেন।
কুদাব আসা দর্শনার্থী নজরুল ইসলাম খান বিকি বলেন,ফেসবুকে ফেরদৌস এর ভিডিও দেখেই এখানে আসার আগ্রহ তৈরি হয়। আজ বাগানে এসে ঘুরলাম, বিভিন্ন ধরনের সবজি দেখলাম এবং কিছু সবজিও কিনেছি। এখানে এসে সময়টা খুব ভালো কেটেছে। কৃষির এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে সে পূবাইলের গর্ব ।
কৃষক ফেরদৌস মিয়া বলেন,আমি প্রায় ১০ বছর ধরে পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। এবার একটু ভিন্ন কিছু করার চিন্তা থেকে ডাটা চাষ করেছি। তবে এত বড় সাফল্য পাব, তা ভাবিনি। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ ডাটা চাষ করেছি। গরুর মাংসের সঙ্গে রান্না করলে এর স্বাদ খুব ভালো হয়। ডাটা গুলো এত সুন্দর ও বড় হয়েছে যে প্রতিটি ১০০ টাকা করে বিক্রি করছি।
তিনি আরও বলেন,আমার ফেসবুক পেজে ডাটার ভিডিও প্রকাশ করার পর সেটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। চাহিদা এত বেশি যে, আরও বড় পরিসরে চাষ করলে সব বিক্রি হয়ে যেত। এ সাফল্যের পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।
হাস্যরসের ছলে তিনি বলেন,যেমন ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে, তেমনি এবার আমার ডাটা শাকও ভাইরাল হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে ‘স্মার্ট কৃষক’ হিসেবে পরিচিত ফেরদৌস মিয়া ২০১৬ সালে ১০৫টি পেঁপের চারা রোপণের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কৃষিকাজ শুরু করেন। প্রথম বছরেই প্রায় এক লাখ টাকা আয় করেন। পরের বছর ৫০০টি গাছ থেকে তার আয় দাঁড়ায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে দুর্বৃত্তরা তার ৫০০টি চারা কেটে ফেললেও তিনি থেমে যাননি। ২০২২ সালে ঝড়ে বাগানের ক্ষতি হলেও নতুন উদ্যমে কৃষিকাজ চালিয়ে যান।
তবে গত বছর বৈরী আবহাওয়া ও বীজ নির্বাচনে ভুলের কারণে তার প্রায় ৫০০টি পেঁপের চারা নষ্ট হয়ে যায়। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। কিন্তু হতাশ না হয়ে নতুন ফসল চাষে মনোযোগ দেন এবং এবার ডাটা শাক চাষে সফলতা অর্জন করেন।
বর্তমানে তার প্রায় ৭ বিঘা জমিতে পেঁপে, কলা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, হলুদ, মরিচ এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছেন।
ফেরদৌস মিয়া বলেন,কৃষিতে ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়। সঠিক পরিকল্পনা, ভালো বীজ নির্বাচন এবং আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চাষাবাদ করলে সফল হওয়া সম্ভব। আমি চাই শিক্ষার্থী ও বেকার তরুণরা কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করুক। একজন শিক্ষার্থী যদি ২৫টি পেঁপে গাছও লাগায়, তাহলে মৌসুম শেষে উল্লেখযোগ্য আয় করা সম্ভব।
বৈরী আবহাওয়ার ক্ষতি কাটিয়ে নতুন ফসলে সফলতার মাধ্যমে ফেরদৌস মিয়া আবারও প্রমাণ করেছেন, অধ্যবসায় ও উদ্ভাবনী চিন্তাই কৃষিতে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তার ১০ ফুট লম্বা ডাটা শাক এখন শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/৮ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































