কারখানার শ্রমিক থেকে জার্মানির বিশ্বকাপের নায়ক উন্দাভ

টানা দুই বিশ্বকাপে হতাশার পর ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে জার্মানি। এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ডেনিজ উন্দাভ; যার ফুটবল জীবনের গল্প রূপকথাকেও হার মানায়। একসময় ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে কারখানায় ৮ ঘণ্টা কাজ করতেন তিনি, আর অবসর পেলেই ছুটতেন ফুটবল মাঠে।
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২–১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে জার্মানির নায়ক হয়ে উঠেছেন উন্দাভ। অথচ কয়েক মাস আগেও বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। এমনকি জাতীয় দলের কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধেও জড়িয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
এক ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে গোল করার পর উন্দাভ বলেছিলেন, তিনি শুরুর একাদশে থাকার যোগ্য। জবাবে নাগেলসমান মন্তব্য করেছিলেন, শুরু থেকে খেললে হয়তো সেই গোলটি করতে পারতেন না উন্দাভ। তবে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর নাগেলসমানও স্বীকার করেছেন, উন্দাভকে শুরুর একাদশে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে উন্দাভের সবচেয়ে বড় লড়াইটা ছিল ফুটবলের বাইরের জীবনে। ১৪ বছর বয়সে ভের্ডার ব্রেমেনের একাডেমি থেকে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ছোটখাটো শারীরিক গড়নের কারণে তার ভবিষ্যৎ নেই। সেই প্রত্যাখ্যান কিশোর উন্দাভকে ভেঙে দিলেও স্বপ্ন ছাড়েননি তিনি।
১৭ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হাভেলসেতে যোগ দেন উন্দাভ। সপ্তাহে আয় হতো মাত্র ১২০ পাউন্ড। ফুটবল থেকে পাওয়া সেই সামান্য অর্থে জীবন চালানো সম্ভব ছিল না বলে তাকে কারখানায় কাজ করতে হতো। ভোরে কাজ, দিনের বাকি সময় অনুশীলন এভাবেই কেটেছে তার জীবনের দীর্ঘ সময়।
এক সাক্ষাৎকারে উন্দাভ বলেছিলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে উঠতাম। কারখানায় যেতাম, তারপর অনুশীলনে। রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফিরতাম। পরদিন আবার একই রুটিন। বেঁচে থাকার জন্যই কাজটা করতে হয়েছে। শুধু ফুটবল থেকে পাওয়া টাকায় চলা সম্ভব ছিল না।’
উন্দাভের জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে ২০২০ সালে, যখন তিনি বেলজিয়ামের ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট জিলোয়াজে যোগ দেন। এরপর ধীরে ধীরে ইউরোপের পেশাদার ফুটবলে নিজের জায়গা তৈরি করেন। এখন জার্মানির জার্সিতে বিশ্বকাপ মঞ্চে আলো ছড়ানো এই ফরোয়ার্ডের সামনে আরও বড় স্বপ্ন ছোঁয়ার সুযোগ। তার গল্প প্রমাণ করে, প্রতিভার সঙ্গে অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে অসম্ভবও একদিন সম্ভব হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































