অতিরিক্ত কাজে কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ, বিক্ষোভ

গাজীপুরের শ্রীপুরে কালার এন্ড কোং লিমিটেড নামের একটি কারখানায় অতিরিক্ত কাজের কারণে অসুস্থ হয়ে দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকরা। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অসুস্থ শ্রমিককে ছুটি না দেওয়া এবং শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।
স্থানীয় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকাল আটটার দিকে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে শতাধিক শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, লিজা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে ছুটি না দিয়ে রাতে কাজ করতে বাধ্য করে। বুধবার রাত ১২টার দিকে ডিউটিরত অবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
একই রাতে শোভা নামে আরও এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহকর্মীদের দাবি, তাকে চিকিৎসার জন্য মাওনা চৌরাস্তার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
একজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, কারখানায় সকাল ৮টায় কাজ শুরু হলেও অনেক সময় রাত ১২টা, এমনকি রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হয়। আবার পরদিন সকাল ৮টায় কাজে যোগ দিতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার কারণে শ্রমিকরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সুপারভাইজাররা প্রায়ই শ্রমিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। কোনো শ্রমিক দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন বা প্রতিবাদে অংশ নিলে পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করে চাকরিচ্যুত করা কিংবা বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সহকর্মী মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিকদের অবরোধের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনচালকরা।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে অবরোধ প্রত্যাহার ও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ‘ওই কারখানার একজন নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।’
এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শ্রমিকদের তোলা অভিযোগ এবং নারী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আচরণের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
(ঢাকাটাইমস/২৫জুন/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































