বোয়ালমারীতে দাতব্য হোমিওপ্যাথি মেডিকেলে মেয়াদোত্তীর্ণ বিপুল ওষুধ, জরিমানা ৩০ হাজার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি দাতব্য হোমিওপ্যাথি মেডিকেল সেন্টারকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বোয়ালমারী পৌরসভা ভবনে অবস্থিত সেন্টারটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিব্বির আহমেদ।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড ২০১২ সাল থেকে বোয়ালমারী পৌরসভা ভবনে দাতব্য হোমিওপ্যাথি মেডিকেল সেন্টারটি পরিচালনা করে আসছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় চিকিৎসা কেন্দ্রে সংরক্ষিত ও রোগীদের সরবরাহ করা ওষুধপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ব্যবহৃত ও বিতরণকৃত ওষুধের প্রায় ৯৯ শতাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এসব ওষুধ সংরক্ষণ ও রোগীদের দেওয়া হচ্ছিল। পরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও মেডিকেল অফিসার ডা. মিহির কান্ত পাল উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হয়েও প্রয়োজনীয় সনদ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রাফি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিব্বির আহমেদ বলেন, ‘একটি দাতব্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ এবং রোগীদের সরবরাহ করা অত্যন্ত দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মেডিকেল অফিসার ডা. মিহির কান্তি পালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের কাছে সুপারিশ করা হবে।
এ ছাড়া চিকিৎসা কেন্দ্রের সহকারী চিকিৎসক ডা. সুনির্মল বসু এবং অফিস সহকারী প্রমিলা কর্মকারকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার শর্তে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
(ঢাকাটাইমস/২৫জুন/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































