জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ গেল ১৭৩ জন

দেশে গত জুন মাসে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩২৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন।
নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫ জন, আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৯০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫১৩ জনের, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৬ জন।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনটি জানায়, জুন মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। এ সময়ে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১২৮টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত ও ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সেখানে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, চালক, পথচারী, পরিবহনশ্রমিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১১ জন বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালক, ৭১ জন পথচারী, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ৪৭ জন শিশু, ৪৫ জন নারী এবং ১০ জন শিক্ষক ছিলেন।
যানবাহনের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় জড়িত ৭৯৫টি যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল। এরপর রয়েছে ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, বাস, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি।
দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৪৩ দশমিক ২৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে। এ ছাড়া গাড়িচাপা বা ধাক্কায় ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং অন্যান্য কারণে বাকি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে পরিবহন খাতে বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ বাড়ানো এবং যাত্রী সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































