তীব্র গ্যাস সংকটে বন্ধ সিএনজি স্টেশন, বাসায় জ্বলছে না চুলা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০০| আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৩
অ- অ+

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে একের পর এক সিএনজি ফিলিং স্টেশন কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে দিনের বড় একটি সময় বাসাবাড়িতে চুলা না জ্বলায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। কোথাও সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ চালু থাকলেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। অনেকেই দীর্ঘ অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।

গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পাওয়ায় তাদের দৈনিক আয় কমে গেছে।

উত্তরার এক সিএনজিচালক বলেন, আগে দিনে একবার গ্যাস নিলেই সারাদিন গাড়ি চালানো যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যায় না। এতে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ট্যাক্সিক্যাব চালক রফিক জানান, গ্যাসের অভাবে নির্ধারিত অনেক ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। যাত্রীদের ফিরিয়ে দিতে হওয়ায় চালক ও যাত্রী—উভয়ই দুর্ভোগে পড়ছেন।

পরীবাগ এলাকার সিএনজিচালক রহিম বলেন, কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরেও গ্যাস পাননি। শেষ পর্যন্ত একটি স্টেশনে গিয়ে দেখেন, প্রবেশমুখে ‘লাইনে গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো। তিনি বলেন, “গাড়ি না চললে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।”

শুধু পরিবহন খাত নয়, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়িতেও। রাজধানীর অনেক এলাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার, ইনডাকশন চুলা কিংবা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছে। এতে বাড়তি ব্যয়ের বোঝাও বাড়ছে।

ইস্কাটনের বাসিন্দা শারমিন জানান, সকালে চুলা জ্বলে না, দুপুরেও একই অবস্থা থাকে। রাতে সামান্য গ্যাস এলে তখন রান্না করতে হয়। একটি তরকারি রান্না করতেও অনেক বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।

গ্যাসের স্বল্পচাপের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাতেও। অনেক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাস না থাকায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে হয়েছে। কোথাও সীমিত পরিসরে উৎপাদন চললেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলো থেকে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন সব শ্রেণির গ্রাহককে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, দেশের চলমান গ্যাস সংকট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি জানান, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এলএনজি কার্গো খালাস ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। তবে মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হবে না। এর প্রভাবে শুধু আবাসিক খাত নয়, গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২৯ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত ৮
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৫০৩ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৩০
এমপি হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই
হবিগঞ্জের ঘটনায় আজ সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক এনসিপির
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা