দুই লাখ মানুষের কৃষিনির্ভর রাঙ্গাবালী; স্লুইসগেটের কপাটে বদলে যায় ফসলের ভাগ্য

পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর প্রায় দুই লাখ মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। কিন্তু কৃষিনির্ভর এই জনপদে বছরের পর বছর স্লুইসগেটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা কৃষকদের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়মতো পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশন না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে বীজতলা, তলিয়ে যাচ্ছে আমনের চারা; আবার মৌসুম শেষে পানি নামতে দেরি হলে পাকা ধানও ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে। এতে প্রতিবছরই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।
চলতি আমন মৌসুমে রাঙ্গাবালীর ছয় ইউনিয়নে ২৮ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষকরা এরই মধ্যে বীজতলা প্রস্তুত করেছেন। তবে তাদের বড় দুশ্চিন্তা উপজেলার ৩২টি স্লুইসগেটের পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
কৃষকদের অভিযোগ, এসব স্লুইসগেটের অনেকগুলো স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে থাকায় কৃষির প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ওঠানামা করা হয় না। মাছ ধরাসহ নানা অজুহাতে নিজেদের ইচ্ছেমতো কপাট খোলা-বন্ধ করা হয়। ফলে কোথাও অতিরিক্ত পানিতে বীজতলা ও আমনের চারা তলিয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও সময়ের আগেই পানি নেমে গিয়ে শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে ফসল।
ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কৃষক বাপ্পি বলেন, প্রতিবছরই স্লুইসগেটের পানি ব্যবস্থাপনার কারণে কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। স্লুইসগেটগুলো উন্মুক্ত ও সঠিকভাবে পরিচালিত হলে কৃষকরা সময়মতো পানি নিষ্কাশন করে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।
রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের কৃষক আল আমিন মিয়ার অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে খাল-নালা ও স্লুইসগেট নিয়ন্ত্রণ করেন। মাছ ধরার অজুহাতে নিজেদের ইচ্ছেমতো পানি ওঠানামা করায় প্রতিবছরই নষ্ট হয় বীজতলা ও ফসল। কৃষকরা প্রতিবাদ করেও প্রতিকার পান না।
শুধু পানি নিয়ন্ত্রণের অনিয়মই নয়, উপজেলার অনেক স্লুইসগেটের কপাট ভাঙা, কোথাও নেই চাবি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেশ কিছু গেট প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। এতে কৃষিজমিতে পানি ব্যবস্থাপনা আরও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষকদের দাবি, স্লুইসগেটগুলো উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এনে স্বচ্ছ ও কৃষিবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অকেজো গেট দ্রুত সংস্কার এবং প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তবে কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মাঝে মাঝে প্রভাবশালীদের স্লুইসগেট দখলের অভিযোগ আসে। অভিযোগ পেলেই উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সেগুলো উন্মুক্ত করা হয়। স্লুইসগেট পরিচালনায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করে উন্মুক্ত রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এরপরও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষকের ভাষায়, রাঙ্গাবালীর ফসলের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করে স্লুইসগেটের কপাট কখন খোলে আর কখন বন্ধ হয়—তাই কৃষির স্বার্থে এই পানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিই এখন সবচেয়ে বড় দাবি।
(ঢাকা টাইমস/১৮আগস্ট/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































