খুলনায় ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

খুলনায় ছেলে ধরা সন্দেহ রাজু শিকদার (২৫) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় মহানগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন রায়ের মহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রায়ের মহল এলাকায় রাজু শিকদার একটি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে তাকে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি রাজুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। পরে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মারধরের একপর্যায়ে রাজু গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাজু শিকদার (২৫) খুলনার ফুলতলা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। তবে তিনি কী কারণে রায়ের মহল এলাকায় এসেছিলেন এবং শিশুটিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলেন—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, রাজু শিকদার রায়ের মহল এলাকায় একটি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই শিশুর সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয় ছিল। তবে স্থানীয়দের মধ্যে তাকে ছেলে ধরা সন্দেহ সৃষ্টি হলে কয়েকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন।
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে পুলিশ কাজ করছে। যারাই এ ঘটনায় জড়িত থাকুক, তদন্তে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, রাজু শিকদারকে সত্যিই ছেলে ধরা সন্দেহে মারধর করা হয়েছিল কি না, শিশুটির সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং গণপিটুনিতে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহের বশে আটক করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা গণপিটুনি দেওয়া আইনত অপরাধ। প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার আগে কাউকে ছেলে ধরা বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত বলে ধরে নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন না করার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার পর রায়ের মহল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে পরিবারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ, শিশুটির পরিচয় এবং গণপিটুনিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশি তদন্তের পরই বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
(ঢাকা টাইমস/১৮আগস্ট/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































