ইউক্রেনের রাজধানীতে রুশ হামলায় নিহত ১৬

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাতভর রাশিয়ার হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বার্তা সংস্থাটি জানায়, এ হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর চলমান ‘উত্তেজনা বৃদ্ধির’ বিরুদ্ধে বিশ্বকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভোরে কিয়েভে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। রাশিয়ার হামলায় একটি শিশু হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি আবাসিক ভবন থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
৪৫ বছর বয়সী বাসিন্দা মারিয়া আব্রামোভা বলেন, ‘এখানে আগে একটি ভবন ছিল, এখন সেটি আর নেই।’
বিমান হামলার সতর্কসংকেত শুনে তিনি সন্তানদের ঘরে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণ শুরু হয়। বিস্ফোরণে তার ঘরের জানালা উড়ে যায় এবং তার স্বামী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
রাশিয়া কিয়েভে ক্রমেই ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঘণ্টায় হাজার হাজার কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে এবং সতর্কসংকেত দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাজধানীতে পৌঁছে যায়।
বুধবার গভীর রাতে সরকারি সতর্কবার্তা জারির তিন মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে কিয়েভে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ফলে সাধারণ মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য তেমন কোনো সময়ই ছিল না।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কিয়েভের সক্ষমতা সীমিত। এগুলো কার্যকরভাবে ঠেকাতে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।
রাশিয়ার হামলা বাড়তে থাকায় ইউক্রেন বারবার মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়ে আসছে। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী এএফপি জানায়, জুলাইয়ে রাশিয়া রেকর্ডসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
জেলেনস্কি সন্ধ্যায় এক ভাষণে বলেন, ‘আমাদের প্যাট্রিয়টের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন—যা শুধু আমাদের অংশীদাররাই দিতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, রাজধানীতে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কিয়েভ অঞ্চলে আরও এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের বাইরে বোরিসপিল এলাকায় কয়েকটি গুদামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রাজধানীতে হামলা প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে চলে। কয়েক দিন ধরেই কিয়েভের বাসিন্দারা সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ছিলেন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি ছিল ব্যাপক হামলা। রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে এর প্রস্তুতি নিয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন হামলা করেছে।’
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া অন্তত ৪৪টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ৩৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে মস্কো জানিয়েছে, তারা কিয়েভ ও এর আশপাশে সামরিক-শিল্প স্থাপনা, একটি পরিবহন ও লজিস্টিক কেন্দ্র এবং গুদামগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































