মোহাম্মদপুরে ‘চুয়া সেলিম’, ‘বোমা রতন’ ও কিশোর গ্যাং নেতা জয় গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২)। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি চুয়া সেলিম, চাঁদ উদ্যানের কিশোর গ্যাং ‘মাহী গ্রুপের’ সেকেন্ড ইন কমান্ড জয় এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী রতন ওরফে ‘বোমা রতন’ রয়েছেন।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বছিলায় র্যাব-২ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
র্যাব জানায়, চুয়া সেলিমের বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ ৩৬টি মামলা রয়েছে। তিনি এসব মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। গত বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেনেভা ক্যাম্পের একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ৭ দশমিক ৬৫ বোরের বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ১১০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধের নিয়ন্ত্রণ ও পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছিলেন চুয়া সেলিম। এর আগে গত বছরের ৮ জানুয়ারি ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব-২।
একই দিনে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং ‘মাহী গ্রুপের’ সেকেন্ড ইন কমান্ড জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব বলছে, তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
র্যাবের দাবি, জয় ও মাহী গ্রুপের অন্য সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান ও নবীনগর এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মারামারিতে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ভাড়াটিয়া ও নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তারা নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর থানার বিজলী মহল্লায় অভিযান চালিয়ে রতন ওরফে ‘বোমা রতন’কে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানায়, তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্রসহ ২০টি মামলা রয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য, বোমা রতন দীর্ঘদিন ধরে গজনবী রোড, বছিলা ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্রধারী একটি চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। এর আগে ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি গজনবী রোড এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ তাকে আটক করা হয়েছিল।
র্যাব-২ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































