আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার হাইকোর্টের রায় আজ

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:০০
অ- অ+

আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার (২৪ আগস্ট)। রায়কে কেন্দ্র করে ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাতের বাড়ি ও পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

সোমবার ভোর থেকে নুসরাতের বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নুসরাতের বাড়িতে আগে থেকেই দুইজন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। হাইকোর্টের রায়কে সামনে রেখে নতুন করে আরও সাতজন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে বাড়িটির নিরাপত্তায় মোট নয়জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

নুসরাতের বড় ভাই মো. নোমান বলেন, বাড়িতে তাদের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা রয়েছেন। বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ায় তারা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ। হাইকোর্টে তারা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. আবুল হাসিম বলেন, ২০১৯ সালে বিচারিক আদালতের রায়ের পর থেকেই নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তায় নিয়মিত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এবার হাইকোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পৃথকভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চে গত ২৮ জুলাই নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়।

রায়কে কেন্দ্র করে নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাদে নুসরাত জাহান রাফির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/২৪ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪৬
নিউইয়র্কে রেস্তোরাঁর বিল নিয়ে বিরোধ, গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
National Crisis Gas, Severe Crisis and the Present Reality
শৈশব পেরিয়ে, এখনও শরণার্থী 
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা