জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সাখাওয়াত, সোহেল, আল আমিন, সাদ্দাম, উজ্জল, অন্তর ও ফয়জুর। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—চাঁন মিয়া, মো. জিয়ার, শাহ আলম, কাওসার, রিফাত, সুমন ও মোস্তফা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ। মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে পুলিশ রাস্তার পাশে থাকা প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে বাড়িটির অবস্থান জানতে চায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে।
পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা- এমন অভিযোগ মামলার নথিতে উঠে আসে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মোস্তফার সমর্থক সাখাওয়াত ও সোহেল। পরে সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নেওয়া হয়।
সেখানে মোস্তফার লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে কুপিয়ে এবং পরে জবাই করে হত্যা করে বলে অভিযোগে বলা হয়। ঘটনার তিন দিন পর পাটখেত থেকে দুজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মহর আলী গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফাদারের ছেলে এবং মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার ভাতিজা স্বপন মিয়া একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/২০ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































