এআই দিয়ে চিকিৎসকের কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া ওষুধ বিক্রি, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২৫| আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৫:২৭
অ- অ+

ইউরোলজিস্ট ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করে ভুয়া ওষুধের বিজ্ঞাপন ও বিক্রির অভিযোগে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি হলেন– তানভির আলম ওরফে রাহাত (২৩) ও মো. নূরনবী ইসলাম ওরফে মানিক (২৩)।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ থানা এলাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোন, একটি সিম কার্ড এবং সাতটি ভুয়া ভেষজ ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শেরেবাংলা নগর থানায় করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরে চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপির দেওয়া তথ্যমতে, গ্রেপ্তার দুজন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ফেসবুকে ভুয়া আইডি ও পেজ খুলে অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ছবি, নাম ও পরিচয় ব্যবহার করতেন।

পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় ওই চিকিৎসকের ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ভিডিও তৈরি করা হতো। এসব ভিডিওতে প্রস্টেটের সমস্যা, শারীরিক ও যৌন দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের কথা বলে ‘Prostulin F’ নামের একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো।

পুলিশ বলছে, চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করায় অনেক মানুষ এসব বিজ্ঞাপন বিশ্বাস করে পণ্যটি কিনে প্রতারিত হচ্ছিলেন। একই সঙ্গে অননুমোদিত বা ভেজাল পণ্য ব্যবহারের কারণে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়তে হচ্ছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিজের ছবি, পরিচয় ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানভির ও নূরনবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস প্রাথমিকভাবে যাচাই করে ভুয়া ফেসবুক পেজসহ প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার দুজনের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অনলাইনে ওষুধ কেনার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী বলেন, অনলাইনে কোনো ওষুধ বা স্বাস্থ্যপণ্য কেনার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বা অপরিচিত ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে ওষুধ না কেনারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে বা কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্যও পরামর্শ দেন তিনি।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
প্রার্থী হয়েও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারছেন না অলি আহমদ
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ফের অস্ত্র উদ্ধার
বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিনসহ গ্রেপ্তার ২
৪০০ বছরের শ্যামসুন্দর মন্দির রক্ষায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগ, হবে বৈজ্ঞানিক প্রি-ডকুমেন্টেশন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা