ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি: বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৩৫
অ- অ+

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত ও পুনর্নির্ধারণ করছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতি জোরদারের মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার কারণে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে সাক্ষাৎকারগুলো পুনর্নির্ধারণ করা হবে। তবে এ প্রক্রিয়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

দপ্তরের ভাষ্য, প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারী শনাক্ত করার দক্ষতা বাড়ানো, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়নের বিষয়টিও প্রশিক্ষণের আওতায় রয়েছে।

এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত ও পুনর্নির্ধারণের খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার নির্ধারিত থাকা আবেদনকারীরা ই-মেইলের মাধ্যমে তাদের সাক্ষাৎকার পুনর্নির্ধারণের তথ্য পেয়েছেন। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।

ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাতেও কঠোরতা বাড়িয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক মতামত বা গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণেও কিছু আবেদনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর হাজারো বিদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। প্রস্তাবটিকে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে, পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করে দেশটিতে থাকার চেষ্টা করা প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাও করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা এসব কঠোর অভিবাসন নীতির লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।

তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করে দিয়েছেন, যার আওতায় ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। বিচারকের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, এসব নীতি বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে পরিচয়ভিত্তিক হয়রানি ও অতিরিক্ত নজরদারি বাড়তে পারে।

২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা বাড়িয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/২৬ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আনসার-ভিডিপির সব ইউনিটে দোয়া
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ঢাকায় জশনে জুলুস
বাদ পড়া ৩০ লাখ শিশুকে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে হামের টিকাদান
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা