টুথপেস্টসহ নিত্যপণ্যের মাইক্রোপ্লাস্টিক যাচাই করবে বিএসটিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪৬
অ- অ+

টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের মান নির্ধারণ ও মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে জাতীয় মানদণ্ড হালনাগাদের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান। সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১-এর আওতায় দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক টক্সিন থাকার দাবি ওঠে। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী। তবে ওই গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস এবং তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, অসম্পূর্ণ গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে যাতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বা অযথা আতঙ্ক তৈরি না হয়, সে জন্য বিএসটিআই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষা ও বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে।

কমিটির তদারকিতে বাজার ও উৎপাদনকারী কারখানা থেকে বিভিন্ন পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের জন্য বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চে (বিসিএসআইআর) পাঠানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক তুলনামূলকভাবে নতুন একটি পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিএসটিআইয়ের বিদ্যমান জাতীয় মানদণ্ডে এত দিন মাইক্রোপ্লাস্টিককে সরাসরি নিষিদ্ধ বা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত ও পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষাগার সুবিধাও বিএসটিআইয়ে ছিল না।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর প্লাস্টিক মাইক্রোবিডের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী। একই সঙ্গে পণ্যে ব্যবহৃত উপাদানের স্পষ্ট ঘোষণা বাধ্যতামূলক করা এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তে মানসম্মত পরীক্ষাপদ্ধতি জাতীয় মানদণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ও পরীক্ষাপদ্ধতি নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। বিসিএসআইআরের পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় মানদণ্ড হালনাগাদ করা হবে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
নগর পরিকল্পনায় ৪০ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষকে বিবেচনায় রাখার আহ্বান সাইফুল হকের
নিহত আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তার পরিবারের পাশে মহাপরিচালক
জন্মাষ্টমীতে ছুটি, জেনে নিন কারা পাবেন আর কারা পাবেন না
রাশিয়ায় নতুন করে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: পুতিন
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা