পাল্টেছে খাদ্যাভাস, কমেছে ভাতের ওপর চাপ

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৭, ২২:২৫
ফাইল ছবি

গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভাসে অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। প্রধান খাবার ভাতের ওপর নির্ভরতা অনেকটা কমেছে। মোট খাদ্যগ্রহণের হারও আগের তুলনায় কমেছে। ২০১০ সালে দৈনিক খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ ছিল এক হাজার গ্রাম, যা ২০১৬ সালে দাঁড়ায় ৯৯৬ গ্রামে। অন্যদিকে ডাল, শাক-সবজি, মাংস ও ডিম খাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ( বিবিএস) সর্বশেষ খানা জরিপ ২০১৬-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার এই জরিপ প্রকাশ করে বিবিএস। প্রতি পাঁচ বছর পরপর এই জরিপ প্রকাশ করা হয়।

জরিপে দেখানো হয়, ২০১০ সালে চাল ও আটা গ্রহণের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে দৈনিক ৪১৬ দশমিক ০১ গ্রাম ও ২৬ দশমিক ০৯ গ্রাম। ২০১৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩৬৭ দশমিক ১৯ গ্রাম ও ১৯ দশমিক ৮৩ গ্রাম। এর ফলে খাদ্য ক্যালরি গ্রহণের হারও কিছুটা কমেছে।

২০১০ সালে মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ ছিল দৈনিক ২৩১৮ দশমিক তিন কিলো ক্যালরি যা ২০১৬ তে দাঁড়িয়েছে ২২১০ দশমিক চার কিলো ক্যালরি। প্রোটিন গ্রহণের হার ২০১০ এ ছিল ৬৬ দশমিক ২৬ গ্রাম এবং ২০১৬ সালে ৬৩ দশমিক ৮০ গ্রাম।

বিবিএস খানা জরিপ ২০১৬-তে দেখা যায় প্রথমবারের মতো খাদ্য বহির্ভূত ব্যয় খাদ্যের তুলনায় বেড়েছে। ২০১৬ সালে খাদ্য বহির্ভূত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং খাদ্য ব্যয় ৪৭.৭০ শতাংশ। ২০১০ সালে খাদ্য বহির্ভূত ব্যয় ছিল ৪৫ দশমিক ১৯ এবং খাদ্য ব্যয় ছিল ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

রিপোর্টে দেখা যায়, ২০১০ সালে গড়ে প্রতিদিন একজন মানুষ ভাত খেত ৪৪১৬ দশমিক ০১ গ্রাম। যার মধ্যে শহরের মানুষ খেত ৩৪৪ দশমিক ২০ গ্রাম আর গ্রামের মানুষ খেত ৪৪১ দশমিক ৬১ গ্রাম। যেটা ২০১৬ সালে হয়েছে ৩৬৭ দশমিক ১৯ গ্রাম। যেখানে শহরের মানুষ খায় ৩১৬ দশমিক ৭০ গ্রাম আর গ্রামের মানুষ খায়  ৩৮৬ দশমিক ০৯ গ্রাম।

২০১০ সালে গড়ে প্রতিদিন এজন মানুষ আটা খেত ২৬ দশমিক ০৯ গ্রাম। যার মধ্যে শহরের মানুষ খেত ৩৩ দশমিক ৬৯ গ্রাম আর গ্রামের মানুষ খেত ২৩ দশমিক ৩৮ গ্রাম। যেটা ২০১৬ সালে হয়েছে ১৯ দশমিক ৮৬ গ্রাম। যেখানে শহরের মানুষ খায় ২৬ দশমিক ২২ গ্রাম আর গ্রামের মানুষ খায় ১৭ দশমিক ৪৪ গ্রাম।

২০১০ সালে গড়ে প্রতিদিন একজন মানুষ ডাল খেত ১৪ দশমিক ৩০ গ্রাম। যার মধ্যে শহরের মানুষ খেত ১৭ দশমিক ৩০ গ্রাম, আর গ্রামের মানুষ খেত ১৩ দশমিক ২৩ গ্রাম। যেটা ২০১৬ সালে হয়েছে ১৫ দশমিক ৬০ গ্রাম। যেখানে শহরের মানুষ খায় ১৬ দশমিক ৮৮ গ্রাম আর গ্রামের মানুষ খায় ১৫ দশমিক ১২ গ্রাম।

একইভাবে ২০১০ এর রিপোর্টে দেখা যায় প্রতিদিন যেখানে একজন লোক শাকশবজি খেত ১৬৬ দশমি ০৮ গ্রাম সেখানে এবারের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬ এর রিপোর্টে দেখা গেছে ১৬৭ দশমিক ৩০ গ্রাম খায় প্রতি জন। প্রতিজন মাছ খেত ৪৯ দশমিক ৪১ গ্রাম; ২০১৬তে ৬২ দশমিক ৫৪ গ্রাম। মাংস ১৯ দশমিক ০৭ গ্রাম; ২০১৬ সালে ২৫ দশমিক ৪২ গ্রাম। ডিম ৭ দশমিক ২৫ গ্রাম; ২০১৬ সালে ১৩. ৫৮ গ্রাম। দুধ ও দুগ্ধ জাতিয় প্রটিন খাদ্য ৩৩ দশমিক ৭২ গ্রাম; ২০১৬ সালে ২৭ দশমিক ৩১ গ্রাম। ফল ৪৪ দশমিক ৮০ গ্রাম; ২০১৬ তে ৩৫ দশমিক ৭৮ গ্রাম। প্রোটিন ৬৬ দশমিক ২৬ গ্রাম; ২০১৬ তে ৬৩ দশমিক ৮০ গ্রাম।

২০১০ সালে প্রতিদিন একজন মানুষ গড়ে গ্রহণ করতো ২৩১৮ দশমিক কিলো ক্যালরি। যার মধ্যে শহরের মানুষ গ্রহণ করতো ২২৪৪ দশমিক ৫ কিলো ক্যালরি আর গ্রামের লোক খেত ২৩৪৪ দশমিক ৬ কিলো ক্যালরির খাদ্য। যা ২০১৬ সালে রিপোর্টে দেখা যায় ২২১০ দশমিক চার কিলো ক্যালরি। যেখানে শহরের মানুষ গ্রহণ করে ২১৩০ দশমিক সাত কিলো ক্যালরি আর গ্রামের লোক ২২৪০ দশমিক ২ কিলো ক্যালরির খাদ্য খায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক খুরশিদ জাহান ঢাকাটাইমসকে বলেন, এখন মানুষের খাদ্যাভাস পরিবর্তন হচ্ছে। তাদের খাদ্য ডাইভারসিফিকিসন হচ্ছে। মানুষ অগের চেয়ে সচেতন হয়েছে খাবারের ব্যাপারে। এর জন্য খাদ্য ব্যয় আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়াও খাদ্য ব্যয় বাড়ার একটি কারণ।  

(ঢাকাটাইমস/১৭অক্টোবর/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত