‘পাট হতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকা শক্তি’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ মার্চ ২০১৯, ২৩:০৭

নতুন নতুন পরিবেশ বান্ধব পণ্যের কারণে সারা পৃথিবীতে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাংক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী পাটের উৎপাদন ২ থেকে ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে পাট হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নতুন চালিকা শক্তি।

সোমবার বিকালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘পাট শিল্পের উন্নয়নে এর বহুমুখীকরণ: সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মতিঝিলের ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে হয় এ অনুষ্ঠান। সেমিনারে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) প্রধান অতিথি ছিলেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম দস্তগীর বলেন, বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক পণ্য বর্জনের ফলে আমাদের পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদার নতুন দিগন্ত সূচনা হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

‘পাটের বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং পাট পণ্যের বহুমুখীকরণে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদানে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

তিনি স্থানীয় বাজারে পাট পণ্যের চাহিদা বাড়ানো এবং সে অনুযায়ী উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান। বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার জন্য মতিঝিলে একটি “ডিসপ্লে সেন্টার” স্থাপন করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।  

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, পাট পণ্য শতভাগ মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে থাকে। তিনি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি পাট পণ্যের সম্প্রসারণের জন্য ইতিবাচক ব্রান্ডিং পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে অতিদ্রুত পাট পণ্যের বহুমুখীকরণ, “জুট পেপার অ্যাক্ট”, বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষণ এবং পাটকল পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন বলে অভিমত দেন। গবেষণা কার্যক্রম এবং শিল্প-কারখানার মধ্যে সমন্বয় আরো বাড়ানো প্রয়োজনে বলে জানান।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, পৃথিবীর প্রায় ৬০টি দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত পাট ও পাটজাত পণ্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ প্রতিবছর এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও চতুর্থ শিল্প বিল্পবের সুফল কিভাবে এখাতে ব্যবহার করা যায় তা খতিয়ে দেখতে হবে।

‘বর্তমানে আমাদের দেশের উদ্যোক্তাবৃন্দ প্রায় ২৩৫ ধরনের পাট পণ্য উৎপাদন করেন এবং প্রায় ৫ মিলিয়ন লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাট খাতের সাথে সম্পৃক্ত।’

পাট হতে কাগজ প্রস্তুতকে উৎসাহিতক করার জন্য “জুট পাল্প অ্যান্ড পেপার অ্যাক্ট” প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

ডিসিসিআই পরিচালক রাশেদুল করিম মুন্না মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা পৃথিবীতে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে পাটের উৎপাদন প্রায় ২ থেকে ৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানান, ইন্টারন্যাশনাল জুট স্টাডি গ্রুপ এর সমীক্ষা অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী পাটের তৈরি শপিং ব্যাগের চাহিদা প্রায় ৫০০ বিলিয়ন এবং ২০২১ সালে পাটের তৈরি ব্যাগের বাজার মূল্য হবে প্রায় ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

নির্ধারিত আলোচনায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব  মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন এর চেয়ারম্যান শাহ্ মোহাম্মদ নাছিম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং নির্বাহী পরিচালক, জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) রীনা পারভীন, বাংলাদেশ পাট গবেষণা কেন্দ্র (বিজেআরআই) এর মহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান এবং এসিআই এগ্রোবিজনেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা  ড. এফ এইচ আনসারী অংশগ্রহণ করেন।

আলোচকবৃন্দ পাটের নতুন বীজ উৎপাদনে গবেষণা পরিচালনা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরো গতিশীল করা, সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিশেষ প্রণোদনা প্রদান, প্রয়োজনীয় নীতিমলা প্রণয়ন ও অবকাঠমো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডিসিসিআই এর সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, কে এম এন মঞ্জুরুল হক,  আল আমিন এবং এস এম জিল্লুর রহমানসহ এ খাতের উদ্যোক্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/১৮মার্চ/জেআর/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :