পরপর দুই দিনে আট হত্যায় থমথমে পাহাড়

রাঙামাটি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৯:১৬ | প্রকাশিত : ১৯ মার্চ ২০১৯, ১৯:০৮
ছবি সংগৃতীত

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ারে সাত খুনের রেশ না কাটতেই এবার বিলাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা। পরপর দুই দিনে দুই হত্যাকাণ্ডে আট নিহতের ঘটনায় থমথমে  পরিস্থিতি বিরাজ করছে পাহাড়ে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের আলিক্ষ্যং এলাকায় সুরেশ কান্তি খুন হন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে ফারুয়া থেকে বিলাইছড়ি সদরে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও ছেলে।

এর আগে গতকাল বাঘাইছড়িতে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপালন শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত হন আটজন এবং আহত হন ১৭ জন।

আজকের ঘটনায় নিহত সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যার ছেলে নিরুপম তঞ্চঙ্গ্যার ভাষ্য, তাদের বহনকারী নৌকাটি আলিক্ষ্যং এলাকায় পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা নৌকাচালকের দিকে অস্ত্র তাক করে তাকে নৌকাটি রেইংখং নদীর পাড়ে ভেড়াতে বাধ্য করে। নৌকা ভিড়তেই  তিনজন অস্ত্রধারী তার বাবাকে নদীর পাড়ে তুলে নেওয়ার চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার বাবাকে  বিলাইছড়ি স্বাস্থ্য কম্পেøক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান নিরুপম।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর এ হত্যাকাণ্ডের জন্য জেএসএস মূল দলকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, জেএসএস মূল দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সুরেশকে হত্যা করেছে।

আওয়ামী লীগের অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএস জেলা সভাপতি নিলোৎপল খীসা বলেন, জেএসএস অস্ত্রের রাজনীতির করে না। এ ঘটনার সঙ্গে জেএসএস জড়িত নয়।

বিলাইছড়ি থানা উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম সাইফুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে।

বেলা ১১টায় নিহতের মরদেহ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ও  সড়কে বসে পড়ে অবরোধ করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। হত্যার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে আগামীকাল বুধবার বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

সাত খুনে এখনো মামলা হয়নি
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ারে ৭ জন নিহতের ঘটনার এক দিন পরও থানায় মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান বাঘাইছড়ি থানার ওসি এম এম মঞ্জুর।

এদিকে আজ সকালে বাঘাইছড়ির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি গোলাম ফারুখ, খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার হামিদুল হক, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ, রাঙামাটি পুলিশ সুপার আলমগীর কবির। পরে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিশেষ সভা করেন তারা।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

জনমনে আতঙ্ক
পর পর দুটি বড় ঘটনায় রাঙামাটির জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। থমথমে পরিস্থিতি বাঘাইছড়িতে। দোকানপাট অধিকাংশ বন্ধ রয়েছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে বাঘাইছড়িতে ফিরছিলেন কংলাক, রুইলুই, মাচালং ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপালন করা নির্বাচনী কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের গাড়িবহর দিঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের ৯ কিলো এলাকায় পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার করে। এতে ঘটনাস্থলে ছয়জন নিহত হন।  আহতদের চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে মারা একজন।  আহত আরো ১৭ জনকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/১৯মার্চ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত