`নারীর প্রতি সামাজিক বৈষম্য এখনও দূর হয়নি`

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৯, ২০:০৪

সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে জেন্ডার বৈষম্য ব্যাপকভাবে কমছে।  তবে নারীর প্রতি সামাজিক বৈষম্য, সংকীর্ণ মানসিকতা, সহিংসতা এখনও দূর হয়নি।

রবিবার পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউণ্ডেশনের (পিকেএসএফ) আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো‘- প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

সেমিনারে`কর্ম, সেবা ও জনসম্পদে নারীর অভিগম্যতা নিশ্চিতের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সম্পৃক্তকরণের বিষয়টি ত্বরান্বিতকরণ: পিকেএসএফের অভিজ্ঞতা‘ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার মহাব্যবস্থাপক (কার্যক্রম) ড. একেএম নুরুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাই নারীদের উন্নয়ন না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সামগ্রিকভাবে নারীর অগ্রযাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। তবে, নারীর প্রতি সামাজিক বৈষম্য, সংকীর্ণ মানসিকতা, সহিংসতা এখনও দূর হয়নি।

জাতীয় স্বার্থে একটি নারীবান্ধব সমাজ গঠনে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাজে নারীর ন্যায্য অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও তাদের অধিকার রক্ষায় নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে পিকেএসএফ বলে সেমিনারে জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। নারীর প্রতি সমাজের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে পিকেএসএফের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, একসময় অর্থনৈতিক উন্নতি নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে সেই ধারণায় এখন পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে মানব মর্যাদা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজের জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম এবং পরিচালনা ও সাধারণ পর্ষদ সদস্য প্রতিমা পাল মজুমদার প্রমুখ সেমিনারে বক্তব্য দেন।

সেমিনারে নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থা শিশু নিলয় ফাউণ্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাছিমা বেগমকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। 

পিকেএসএফ সমাজের পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় দুই শতাধিক সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ১.৩৪ কোটি সদস্য এর কার্যক্রমে সম্পৃক্ত, যার মধ্যে ১.২৯ কোটিই (৯৬ শতাংশ) নারী। নারীর আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ, বাজার তথ্য অবহিতকরণ, বাজার সংযোগ স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ করছে পিকেএসএফ। দেশের কিশোরীদের নেতৃত্ব গুণাবলী বিকাশ এবং তাদের আত্মসচেতন ও অধিকার-সচেষ্ট করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সারাদেশে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিশোরী ক্লাব গঠন করেছে। বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের মাধ্যমে হাওর ও চরাঞ্চলের অতিদরিদ্র নারী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, দলিত ও বেদে সম্প্রদায়ের নারী সদস্য এবং হিজড়াদের ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে নানাবিধ আর্থিক ও অ-আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।

(ঢাকাটাইমস/২৪মার্চ/জেআর/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :