জি-টোয়েন্টি সম্মেলন: ওসাকায় চোখ বিশ্বের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৯, ১৫:০৪

দুই দিনের জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে জাপানের ওসাকা শহরে পৌঁছতে শুরু করেছেন বিশ্বনেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আস্ফালন শুরু করে দিয়েছেন।

শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জি-টোয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে। বিশ্বের সেরা ২০টি অর্থনৈতিক শক্তি নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিবাদ ভুলে জলবায়ু পরিবর্তন, শরণার্থী সংকট, বিশ্ব বাণিজ্যে বাধাবিপত্তির মতো বিশাল চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করতে সক্ষম কিনা, এই দুই দিনে তার ইঙ্গিত পাওয়া যাবে। আয়োজক দেশ হিসেবে জাপান সম্মেলনের এজেন্ডা আঁকড়ে ধরতে চাইছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কতটা পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এই সম্মেলনের সুযোগ নিয়ে বিশ্বনেতারা বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও পরিকল্পনা করে রেখেছেন। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠককে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধ করতে তারা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেন কিনা, সেই প্রশ্নই বারবার উঠে আসছে। আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমলেও অগ্রগতি না হলে ট্রাম্প চীন থেকে আমদানির উপর আরো শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছেন। এই দুই দেশের সংঘাত বিশ্ব বাণিজ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে গোটা বিশ্ব এই সংকটের অবসান চাইছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চীনের অর্থনীতির দুর্দশার উল্লেখ করে দ্রুত বোঝাপড়ার সম্ভাবনার কথা বলেছে।

ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংকটও বিশ্বনেতাদের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এই প্রশ্নে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়বেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেন ছাড়াও চীন ও রাশিয়া ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি মেনে চলতে চাইছে। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই পথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ইরানও মরিয়া হয়ে পরমাণু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করার হুমকি দিচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের শীর্ষ নেতারা উত্তর কোরিয়ার বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচির বিষয়েও আলোচনা করবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি পিয়ং ইয়ং সফর করেছেন। অ্যামেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের শেষ বৈঠক বিফল হলেও সম্প্রতি ট্রাম্প ও কিম জং উন পরস্পরকে চিঠি লেখায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অগ্রগতির আশা বাড়ছে। তবে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র সম্পূর্ণ দূর করার যে দাবি করছে, পিয়ং ইয়ং তা মেনে নেবার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসনের সংশয় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আয়োজক দেশ হিসেবে জাপান ট্রাম্প প্রশাসনকে চটাতে চাইছে না। ফলে যৌথ ঘোষণাপত্রে কার্বন নির্গমন আরো কমানোর অঙ্গীকারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।

ট্রাম্প ও আরো কয়েকজন বিশ্বনেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে ঘিরেও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মিলিত হবেন। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে অ্যামেরিকায় এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২০ সালের নির্বাচনেও রাশিয়া হস্তক্ষেপের কোনো চেষ্টা করে কিনা সেদিকে বাড়তি নজর দেওয়া হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রসায়ন ভালো হলেও সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে সংঘাত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর কালো ছায়া ফেলছে। ভারত মার্কিন পণ্যের উপর সম্প্রতি যে বাড়তি শুল্ক চাপিয়েছে, এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা টাইমস/২৭জুন/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :