অসুস্থ বাবাকে দেখতে চাওয়ায় স্ত্রীকে খুন করলো স্বামী

বাবার বাড়িতে এলেও জীবিত নয়, খাটিয়ায় শুয়ে আসতে হয়েছে বীথি বেগমকে (৩৫)। অসুস্থ বাবাকে দেখতে চাওয়ায় স্বামীর হাতে খুন হওয়ার পর তার লাশ ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীতে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
শারীরিক নির্যাতনের পর বিথীর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করা হয় অভিযোগ উঠেছে বিথীর স্বামী সাখাওয়াত হোসেন শেখের বিরুদ্ধে। এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত সাখাওয়াত।
নিহত বীথি বেগম বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের রতন শেখের মেয়ে।
রবিবার বিকালে বিথীর লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বীথি।
জানা যায়, ১৫ বছর আগে একই উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের তামারহাজি গ্রামের নজির শেখের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন শেখের সঙ্গে বীথি বেগমের বিয়ে হয়।
বীথি বেগমের পরিবারের সদস্যরা জানায়, বিথির বৃদ্ধ বাবা বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু পথযাত্রী ছিলেন। এ খবর পেয়ে বাবাকে দেখতে চেয়েছিল বীথি। কিন্তু তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে বীথি বেগম জেদ ধরলে তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায় সাখাওয়াত। তার নির্যাতনের একপর্যায়ে বীথি বেগম অচেতন হয়ে পড়লে সাখাওয়াত তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার নাটক সাজায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিথীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
গৃহবধূর চাচাতো-ভাই সজল শেখ জানান, চাকুরির সুবাদে আমি ফরিদপুর অবস্থান করি। আমার ছোট ভাই ফোন করে জানায়, বিথীকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে আমি মেডিকেলে ছুটে যাই, তখনও তারা পৌঁছায়নি। তারা পৌঁছানোর পরেই আমি বোনের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, এসময় আমার বোন জামাইসহ অন্য আত্মীয়রা পালিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও বিষের প্রতিক্রিয়ায় শনিবার সন্ধ্যার দিকে আমার বোনের মৃত্যু হয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহতের মা দোলেনা বেগম বলেন- ‘আমার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’
বিথীর বোন নাজমা বেগম বলেন, ৯ ভাই-বোনের মধ্যে বীথি ছোট। বিথীকে তার স্বামী সাখাওয়াত প্রায় সময় নির্যাতন করত। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ফোনে কান্নাকাটি করতো। এর আগেও তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। আমার বোন বিষপান করতে পারে না। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। তারা হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছে এটাই তার প্রমাণ।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মাসুদ রানা জানান- মৃতদেহের সুরতহাল করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন-এ বিষয়ে আমরা এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
(ঢাকাটাইমস/২৮এপ্রিল/প্রতিনিধি/পিএস)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































