নারায়ণগঞ্জে পিটিয়ে হত্যা করা যুবক বাকপ্রতিবন্ধী

মাজহারুল ইসলাম রোকন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ জুলাই ২০১৯, ১২:৩৪

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে যাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তিনি বাক প্রতিবন্ধী বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, একটি শিশুর পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পরিচয় জানতে চায় স্থানীয়রা। তার ওই যুবকের কথা বলার শক্তি ছিল না। আর এতেই শুরু হয় পিটুনি।

পুলিশ জানায় নিহত যুবকের নাম সিরাজ মিয়া। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের ৫নং ওয়ার্ড এলাকার আবদুর রশিদ মণ্ডলের ছেলে। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষা করে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জোনের পরিদর্শক (প্রশাসন) জহিরুল ইসলাম জহির ঢাকা টাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শনিবার সকালে ঘটনার পরেই আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করি।’

‘পিবিআইয়ের নারায়ণগঞ্জ জোনের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, আমি ও সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ এস আই সাখাওয়াত সুলতান ও টিপু সুলতানের নেতৃত্বে নিহতের ফিঙ্গার প্রিন্টসহ অনুসঙ্গ পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি।’

শনিবার সকালে মিজমিজি আল আমিন নগর এলাকায় সিরাজকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সকাল আটটার দিকে সাদিয়া নামে একটি শিশু স্কুলে যাওয়ার সময় পাশে হাঁটছিলেন সিরাজ। স্থানীয়রা তার পরিচয় জিজ্ঞেস করলে স্বভাবতই তিনি চুপ ছিলেন। এতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে স্থানীয়রা। শুরু হয় গণপিটুনি। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিরাজকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। কিন্তু তখন তার দেহে প্রাণ ছিল না।

সম্প্রতি ফেসবুক ও ইউটিউবে পদ্মাসেতু নির্মাণে এক লাখ মানুষের মাথা লাগবে বলে উদ্ভট তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, সারাদেশে ৪২টি দল বের হয়েছে মাথা সংগ্রহে। যারা মূলত শিশুদের মাথা কেটে নিয়ে আসছে।

এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই গুজবে কান না দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে মামলা দেওয়া হয়েছে। তবু গুজব থামছে না।

এর মধ্যে গত বুধবার নেত্রকোণায় বলাৎকারের পর একটি ছেলে শিশুকে কলা কেটে হত্যার পর তার মাথা নিয়ে যাওয়ার পর ধরা পড়েন এক যুবক। তাকে সঙ্গে সঙ্গে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

এই ঘটনায় মাথা কাটা গুজবের আগুনে যেন ঘি লাগে। পরদিন রাজশাহীতে নিজ ঘরে কাচ পরে এক শিশুর গলা কেটে যাওয়ার পর আরো ছড়ায় গুজব। এমনিতে দেশে যত হত্যা হয়, তার মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই হয় বেশি। এই গুজবের পর ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে যতগুলো হত্যা হয়েছে, ততবার ছড়ানো হয়েছে অপপ্রচার।

পুলিশ সতর্ক করেছ, এই ধরনের গুজব ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সন্দেহভাজন কাউকে না পিটিয়ে যেন তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, সে অনুরোধও এসেছে।

কিন্তু সাধারণের মধ্যে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সতর্কতা আর অনুরোধ পাত্তা পাচ্ছে না, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। শুক্রবার রাতে ঢাকার কেরানিগঞ্জ, পরদিন নারায়ণগঞ্জে সিরাজ ছাড়াও আরো এক নারীকে পিটুনি দেওয়া হয়েছে সন্দেহের বসে। তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়েছে স্থানীয়রা।

একই দিন ঢাকার বাড্ডায় মেয়েকে স্কুলে ভর্তির জন্য খোঁজ নিতে যাওয়া এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় একই সন্দেহে। কুমিল্লায় পেটানো হয়েছে এক ভিক্ষুককে।

এর আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক রঙ মিস্ত্রিকে। পেটানো হয়েছে আরো একাধিক মানুষকে। অপরিচিত দেখলেই তেড়েফুঁড়ে আসছে স্থানীয়রা।

(ঢাকাটাইমস/২১জুলাই/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :