চাঁদপুরের মর্গ যেন ময়লার ভাগাড়

শরীফুল ইসলাম, চাঁদপুর
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:২৬

মর্গ থাকার কথা হাসপাতালের পাশে। তবে চাঁদপুরের মর্গের পাশে শুকরের খামার। আর সামনে থেকে দেখলে মনে হবে যেন একটি ময়লার ভাগাড়। শহরের আড়াইশ’ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গটি অবস্থিত দুই কিলোমিটার দূরে স্বর্ণখোলা রোডে। কিন্তু এখানেই এনে ফেলা হয় শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লার ময়লা আবর্জনা।

এদিকে মর্গটির এই দুর্দশার কারনে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসকসহ লাশের সঙ্গে আসা স্বজন-পরিজনদের। দূরত্ব আর নানা সংকটে ময়নাতদন্তের কার্যক্রমও ব্যহত হচ্ছে। তাছাড়া মর্গে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, ময়লা-আবর্জনা সমস্যা ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকায় এর প্রভাব পড়ছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি ভূতুড়ে ভবনে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গটি। হাসপতাল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মর্গটিতে ময়না তদন্তের জন্য নেই কোন সুব্যবস্থা। মর্গের চারপাশে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়, রয়েছে শুকরের খামার। মর্গের আশপাশে শুকরের বিচরন আর দূষিত ময়লা আবর্জনায় ভরা পরিবেশেই চিকিৎসকদের করতে হচ্ছে ময়নাতদন্তের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অপরিকল্পিতভাবে তৈরিকৃত মর্গটিতে নেই পর্যাপ্ত লোকবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, লাশ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ, ভেন্টিলেশনসহ মরদেহ দোয়ার পরে রক্ত ও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা। ময়নাতদন্তের জন্য চারজন ডোমের চাহিদা থাকলেও রয়েছে মাত্র দুই জন। এদের মধ্যে একজন মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছেন। একজন ডোমের মাধ্যমেই মরদেহের কাজ করা লাগছে চিকিৎসকদের।

আবার ময়নাতদন্তকারী কোন চিকিৎসকও নেই চাঁদপুরে। তাই বাধ্য হয়েই হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, সার্জারি, মেডিসিনসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের হাসপাতালের ডিউটি ফেলে ময়নাতদন্তের কাজ করতে হচ্ছে।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজাউদৌলা রুবেল বলেন, ‘অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝে কাজ করতে হচ্ছে। মর্গটির আশপাশের পরিবেশে যে কোনও সুস্থ্য মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পড়বে। কর্তৃপক্ষকে অনেক বার বলার পরেও ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ হয়নি। শুকরের খামার পেরিয়ে যাওয়া লাগে মর্গে।’

তিনি আরো বলেন, ‘লাশ কাটার জন্য কোনও আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। লাশ সংরক্ষণের জন্য নেই কোনও ফ্রিজিং ব্যবস্থা। তাই অনেক সময় গরমে লাশে পচন ধরে ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে।’

এছাড়া পরীক্ষাগার না থাকায় রিপোর্টের জন্যে লাশের দেহের বিভিন্ন স্যাম্পল কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম পাঠানো হয়। এতে তদন্তের রিপোর্ট পেতে ১৫ দিন থেকে মাসখানেক সময় লেগে যায় বলে জানান এই চিকিৎসক।

মর্গের একমাত্র ডোম বাপ্পী জানান, লোকবল সংকটের কারণে মর্গে তাকে একাই সকল কাজ করতে হয়। অনেক সময় লাশ বেশি আসলে সমস্যায় পড়তে হয়।

তিনি বলেন, ‘মর্গের ভিতরে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা ঠিকমত না থাকায় অনেক সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের। তাছাড়া একটু বৃষ্টি হলেই ভাঙা জানালা দিয়ে পানি ঢুকে যায় মর্গে। এতে কাজের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে।’

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘মর্গের এই সংকট দূর করতে কর্তৃপক্ষের নিকট বিভিন্ন সময়ে দাবি জানালেও আশ্বাস ছাড়া সমাধান পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়েই কাজ করা লাগছে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘উন্নত ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক সময় ১০ মিনিটের কাজ ১ ঘন্টা গেলে যায়। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সঠিক রিপোর্ট দেওয়ার শতভাগ চেষ্টা করা হয়।’

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :