রাজনীতিতে ক্রাইম সিন্ডিকেট

ক্ষমতার সঙ্গে দুর্নীতি চার যুগ ধরেই চলছে

সৈয়দ ঋয়াদ
 | প্রকাশিত : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৩৮

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি ও গণতান্ত্রিক বাম জোটের অন্যতম নেতা। ডাকসুর প্রথম নির্বাচিত ভিপি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সৈয়দ ঋয়াদ।

 

দুর্নীতি ও নানা রকম অপরাধের সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অভিযান কিভাবে দেখছেন?

গোটা ক্ষমতাসীন মহল নানা ধরণের অপরাধের আকন্ঠ নিমজ্জিত। আমি শুধু বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কথা বলছি না। এর আগেও যারা ক্ষমতায় ছিল বিএনপি, জাতীয় পার্টি, প্রত্যেকেরই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। সরকারে থাকা দলগুলো তাদের ক্ষমতাকে অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলার একটা ফেনোমেনা চলে আসছে। আর এটা গত প্রায় চার যুগের ধরে অব্যাহত আছে।

বর্তমানে এটা এমন আকার ধারণ করেছে যে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলেই নয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী জাহাঙ্গীর নগরে যখন চাঁদাবাজির করল, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে কথা হচ্ছিল কিছু একটা হবে। মানুষের এই ভাবনা হতে না হতেই ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে থাকা দুজনকে অপসারণ করা হয়েছে। আরও একটা কথা আছে। আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি বলেছে তাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে শৃঙ্খলা বিরোধী কাজের জন্য। অথচ এরা অপরাধমূলক কাজ করেছে। অপরাধ আর শৃঙ্খলাতো এক না। এটাতো শৃঙ্খলা পরিপন্থী না এটা অপকর্ম। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে আমার প্রশ্ন হলো, চাঁদাবাজি কী শৃঙ্খলার মধ্যে করতে বলছেন? এটা শৃঙ্খলা পরিপন্থী হলো না কী অপরাধ হলো? যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত ছিল। কিন্তু সেটাতো করেনি। যদি অপরাধমূলক কাজের ব্যবস্থা নেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, তাদেরকে গ্রেফতার হতে হবে। অবশ্যই চাঁদাবাজি যেমন অপরাধ ক্যাসিনো পরিচালনা করাও অপরাধ।

এই অভিযানে দলটিতে শুদ্ধতা ফিরে আসবে?

ক্যাসিনো চলছে, চলবে। অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে এটা এক্সপোজ হলো। এটা না করে কোনো উপায় ছিল না। যুবলীগের হাইকমান্ডের সম্পৃক্ততা সেখানে হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টা পুলিশ বা প্রশাসন জানতো না তাতো নয়। বরং এতে প্রতীয়মান হয় ক্ষমতা জনগণের সেবার জন্য নয়, অপরাধীদেরকে রক্ষা করা জন্য জন্য ব্যবহার হচ্ছে। এর আগে আরো কতগুলো ঘটনা ঘটলো। বালিশ কান্ড, পর্দা কাণ্ড, ঢেউটিন কান্ড, রাবার স্ট্যাম্প সিল কান্ড। যে রাবার স্ট্যাম্প সিলের দাম ১ হাজার টাকা সেটার দাম ধরা হয়েছে এক লাখ টাকা। এরকম করে দেদারছে টাকাপয়সা লুটপাট করা হচ্ছে।

সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

সরকার সবই করবে। তবে সবক্ষেত্রে প্রশাসন ও পুলিশ সবার সহযোগিতা দরকার। এরা এসব সহ্য করেছে। বসতে দিয়েছি। সরকার এর জন্য দায়ী এবং তাকে এর দায় গ্রহণ করতে হবে কিন্তু আমাদের এটাও বুঝা উচিত, এই সরকারের আগে যেসব সরকার ছিল তাদের আমলেও একই ঘটনা ঘটেছে এখন শুধু এর ধারাবাহিকতা চলছে। সরকার আসে যায় শুধু জনগণ সুবিধাবঞ্চিত থাকে।

রাজনীতিতে ক্রাইম সিন্ডিকেট ঢুকে গেছে বলছেন?

অবশ্যই। এটা শুধু আওয়ামীলীগই করেনি এর আগে যারা ক্ষমতায় ছিল প্রত্যেকেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাস্তান পুষেছে। আর এই ধরণের ক্রাইম সিন্ডিকেটগুলোর ওপর দলগুলো ভরসা করে। এই সিন্ডিকেটের স্বার্থে সরকার পরিচালিত হয়। একথা পরিস্কার, আমাদের সমাজের পঁচন ও রুগ্নতা ধরেছে। রুগ্নতা বললে ভুল হবে- এটাকে আমি পঁচন বলবো। চরম পঁচনের ভেতর চলে গেছে সমাজ অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সব জায়গায়। তার জন্য অবশ্যই দায় নিতে হবে ক্ষমতাসীন দলের।

রাষ্ট্রে পরিচালনার সঙ্গে ভালমন্দ সবই মিশে যায়, তাদের চিহ্নিত করা সময়সাপেক্ষ নয় কী

একটা কথা বলে রাখি আমাদের  এখানেই নয় গোটা বিশে^ প্রতিক্রিয়াশীল সামাজিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশও এর বাইরে নয়। বরং সবার চেয়ে অনেক বেশি। পচঁনের মূল উৎস হচ্ছে এই জায়গাটা। গদির বদল হয় কিন্তু জনগণের অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। বাজার অর্থনীতির নামে লুটপাটের অবাধ তত্ত্ব এবং দর্শনের ভিত্তিতে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে গত প্রায় চার যুগ ধরে। বিশেষ করে ৭৫ পরবর্তী সময়ে এটাকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা এতদিন ধরে ক্ষমতায় কিন্তু বিএনপির নীতি পরিত্যাগ করেনি। এরশাদ ক্ষমতায় থাকতেও জিয়াউর রহমানের নীতি পরিত্যাগ করেনি। একইভাবে জিয়াউর রহমান মোস্তাকের নীতি পরিত্যাগ করেনি। মুক্তিযুদ্ধের নীতি থেকে দেশ প্রায় চার যুগ ধরে ক্রমশই দূরে সরে আসছে। মুক্তিযুদ্ধের বিপরীত ধারায় দেশ পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং বর্তমানে দেশকে যদি এগিয়ে নিতে চায় তবে সমস্যার গোড়ায় হাত দিতে হবে। দেশকে লুটপাটের অর্থনীতি থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং শেখ হাসিনাকে সমাজতন্ত্র অভিমুখী নীতি গ্রহণ করতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/২২সেপ্টেম্বর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :