ছেউড়িয়ায় বসেছে রসের মেলাও

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:০৪

গরম জিলাপি, ফুল জিলাপি, রসগোল্লা, রাজভোগ, প্যারা সন্দেশ, কালোজাম, চমচম, কুষ্টিয়ার স্পেশাল চমচম, খেজুর মিষ্টি, চিনির তৈরি দাদাদার, গুড়ের খুরমা, চিনির খুরমা, লেংচা, সানার পোলাও, কদমা, ছাচ, বিভিন্ন রকমের খাগড়াইসহ আরো অনেক প্রকারের মিষ্টি। এসবের নাম শুনলেই যেন খেতে ইচ্ছা করে। আর দেখলে তো কোন কথায় নেই। যেমন দেখতে, তেমন খেতে।

এসব বাহারি মিষ্টি পাওয়া যাচ্ছে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার লালন মেলায়। এ যেন মিষ্টি রসের মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা লালন মেলার দর্শনার্থীদের প্রায় সকলকেই টানে এই মিষ্টির ঘ্রাণ। সেই সাথে চোখের সামনেই ভাজা গরম জিলাপির রসালো চেহারা যেন জিভে জল এনে দেয়।

কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহর ১২৯তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে চলছে লালন মেলা। আর লালন মেলা থেকে বের হওয়ার পথেই চোখে পড়বে এসব মিষ্টি দোকানের। 

শিশু, কিশোর, নারী-পুরুষ, বয়স্ক সে যেই আসুক এই লালন মেলায় এসব মিষ্টি তাদের আকৃষ্ট করেই। আর বিক্রেতারাও সুন্দর করে সাজিয়ে রাখে। লালন মেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খাওয়া, বাড়ির জন্য নিয়ে যাওয়া এটা মেলায় ঘুরতে আসা প্রায় সব দর্শনার্থীদেরই কাজ। 

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আঁখড়াবাড়ি ঘেষে কালী নদীর পাড়ে রাস্তার দুধারে বসেছে প্রায় শতাধিক এসব মিষ্টির দোকান। 

মেলায় ঘুরতে আসা সোহেল রানা জানান, লালন মেলায় গরম গরম জিলাপি খেতে বেশ মজা লাগে। তাই এখানে জিলাপি খেতে এসেছি। এখানের জিলাপিগুলো মচমচে রসালো। এছাড়া বাড়ির জন্য চিনির তৈরি ছাচ কিনেছি। সব সময় তো এগুলো পাওয়া যায় না। 

উসমান আলী নামে আরেকজন জানান, মেলায় এসে খুরমা, সন্দেশ, জিলাপি খেয়েছি। বেশ মজা লেগেছে। ভাবছি বাড়ির জন্য কিছু কিনে নিয়ে যাব। 

দর্শনার্থী জয়শ্রী পাল জানান, লালন মেলায় এলেই আমি মিষ্টির দোকানগুলোতে আসি। চিনির তৈরি দানাদার মিষ্টি আমার খুবই পছন্দের। প্রতিবছরই আমি এখান থেকে এই দানাদার মিষ্টি কিনি। এবারো কিনেছি। আর এখানে দামও কম। 

মিষ্টির বিভিন্ন দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখানে অনেক প্রকারের মিষ্টি পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় দানাদার, আর জিলাপি। এছাড়া অন্যান্য মিষ্টিও বিক্রি হয় বেশ ভালো। 

আবুল কালাম নামে এক দোকানদার মিষ্টির দাম সম্পর্কে বলেন, এবারে মেলায় গরম জিলাপি (ফুল ও দেশি) ৮০ টাকা কেজি দরে, ছানার জিলাপি ১০০ টাকা কেজি দরে, দানাদার ১২০ টাকা কেজি দরে, গুড়ের খুরমা ১২০ টাকা কেজি দরে, খেজুর মিষ্টি ১০০ টাকা কেজি দরে, চিনি মিষ্টি ১০০ টাকা কেজি দরে, সানার পোলাও ২০০ টাকা কেজি দরে, রাজভোগ ২২০ টাকা কেজি দরে, লেংচা ১৬০ টাকা কেজি দরে, প্যারা সন্দেশ ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারে মিষ্টি বিক্রি বেশ ভালো। তবে দোকানের পজিশনের খাজনা একটু বেশি। মেলার এই তিন দিনে আমার এই দোকানে খাজনা দিতে হয় ২০ হাজার টাকা। শুক্রবার ছিল তো শেষ দিন। গত দুদিনের যে বিক্রি হয়েছে তার চেয়ে আজকে বেশি বিক্রি হবে বলে আশা করছি। 

কাউসার নামে এক মিষ্টির দোকানি জানান, বাচ্চারা কদমা, খাগড়াই, খই, ছাচ খুবই পছন্দ করে। বেচা বিক্রিও ভালো। কদমা কেজিপ্রতি বাচ্চারা কদমা, খাগড়াই, খই, ছাচ বাটা রেট ১০০ টাকা। 

সবুর নামে এক জিলাপি ভাজক জানান, লালন মেলার এই তিন দিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত জিলাপি ভাজতে হয়। এখানের গরম জিলাপি বেশ সুস্বাদু। কথা বলার সময়ই থাকে না। আর আমরা জিলাপি ভেজে কুলাতে পারিনি।

(ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :