খালেদার জামিন ইস্যু

দুরাশা বাড়ল বিএনপির

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:২১ | প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৮
অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে (ফাইল ছবি)

দুর্নীতি মামলার দণ্ড নিয়ে কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। আজ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপিনেত্রীর জামিন শুনানি হবে। তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী খালেদার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার ওপর মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদন দিতে পারছে না বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষকে ওই প্রতিবেদন আজ জমা দেয়ার নির্দেশ ছিল সর্বোচ্চ আদালতের। প্রতিবেদনটি জমা না হওয়ায় দলনেত্রীর জামিন ইস্যুতে দুরাশা বেড়েছে বিএনপির। আজকের শুনানিতে খালেদা পক্ষে থাকতে পারেন আইনবিদ কামাল হোসেন।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সবশেষ শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদন জমা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রি. এ কে এম মাহবুবুল হক বলেন, প্রতিবেদন তৈরি না হওয়ায় উচ্চ আদালতে বিএনপিনেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিলম্বের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করেছে। তবে প্রতিবেদনটি পুরোপুরি তৈরি না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি উচ্চ আদালতকে জানিয়ে সময় চাওয়া হবে।’

এদিকে বিএনপির নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা তবুও আশা করছেন শারীরিক অসুস্থতা ও মানবিক বিবেচনায় হলেও জামিন পাবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন দলনেত্রীর মুক্তির দাবিতে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করলেও আপাতত চুপচাপ রয়েছে দলটি।

একই বিবেচনায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন পাবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ওই মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া সাজা উচ্চ আদালতে বৃদ্ধি করা হয়েছে।  সেক্ষেত্রে নতুন করে কোনো মামলা না হলে খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কোনো বাধা থাকবে না।

বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত দেখে পরবর্তি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত জামিন না হলে নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন বলে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তবে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে নির্দেশনা রয়েছে দলের শীর্ষ পর্যায়ের।

দলপ্রধানের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সবশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। জামিন পাওয়া নিয়ে শঙ্কার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার কথা হয়। ঢাকা মহানগরী, জেলা ও বিএনপির প্রতিটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে একযোগে গণমিছিল বের করার কথাও ভাবা হচ্ছে। বিএনপি নেতারা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে নেয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতারা জরুরি বৈঠকও করেছেন। তবে সবশেষ কি সিদ্ধান্ত হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যদিও ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে তেমন আপত্তি করেননি বিএনপির সিনিয়র আইনজীবীরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন কোর্টে গেলে এটা অবশ্যই ইতিবাচক। যদিও তিনি ক্রিমিনাল মামলা লড়েন না তারপরও বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিতে থাকলে অন্য মাত্রা পাবে।’

শুনানিতে কামাল হোসেনের থাকার বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হলেও তিনি থাকতে পারেন।’

অন্যদিকে জামিন না হলে বিএনপি কী সিদ্ধান্ত নেবে- এমন প্রশ্ন ছিল দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখি না কী হয়? আমরা কতদিন আর অপেক্ষা করব? আইনি প্রক্রিয়া দেখে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’ এসময় অবশ্য রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন গণতন্ত্রের জায়গা বন্ধ হয়ে যায় তখন রাজপথেই তার সমাধান করতে হয়।’

বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘জামিন হবে কি হবে না নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। তবে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মেডিকেল রিপোর্ট দেখে নিশ্চয়ই ভালো কিছু সিদ্ধান্ত আসবে এটা বিশ্বাস। যদি অন্য রকম কিছু হয় তাহলে আর বসে থাকাও সম্ভব হবে না। আমরা মাঠে নামব।’

(ঢাকাটাইমস/০৫ডিসেম্বর/এআইএম/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :