অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে হলে

ফিচার প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ১১:২৩

অ্যালার্জি বলতে পরিবেশে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজাত সংক্রমণ। পরিবেশের কিছু কিছু উপাদান আছে যা সবার পক্ষে ক্ষতিকর না হলেও কিছু কিছু মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর। ওই উপাদান থাকতে পারে সবজির মধ্যে, মাছের মধ্যে বা অন্য কোনো মাধ্যমে। এই উপাদানগুলোকে বলা হয় অ্যালার্জেন্স। এই অ্যালার্জেন্স শরীরের সংস্পর্শে আসলে তখন অ্যালার্জি হয়।

অ্যালার্জির একটা প্রবণতা আছে। সেই প্রবণতার নাম হলো অ্যাটোপি। এটা মূলত জেনেটিক মানে বংশ পরম্পরা সূত্রে হতে পারে।
আর যারা এরকম বংশ পরম্পরা সূত্রেই অ্যালার্জির প্রবণতায় আক্রান্ত, তাদের বলা হয় অ্যাটোপিক। যখন এই অ্যাটোপিক মানুষরা অ্যালার্জেন্সের সংস্পর্শে আসে, তখনই অ্যালার্জি হয়ে থাকে।

পরাগ বা পুষ্পরেণু ও কিছু খাবার খুব সাধারণ কিছু অতিপ্রতিক্রিয়া-উৎপাদক। ধাতবসহ অন্যান্য বস্তুও সমস্যা তৈরি করতে পারে। খাবার, কীটপতঙ্গের হুল ও ওষুধ তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির জন্য দায়ী।

খাদ্যে অ্যালার্জি থেকে তৈরি হওয়া এক অস্বাভাবিক ইমিউন প্রতিক্রিয়া। এতে চুলকানি, জিহ্বা ফুলে ওঠা, বমি, ডায়রিয়া, হাইভ, শ্বাসকষ্ট বা রক্তচাপ কম হয়ে যেতে পারে।

সাধারণত গরুর দুধ, চিনাবাদাম, ডিম, শেলফিশ, মাছ, গাছ বাদাম, সয়া, গম, চাল এবং ফলের মাধ্যমে খাদ্যে অ্যালার্জি হতে পারে।

অ্যালার্জি কীভাবে হয়
যখন কোনো মানুষ, যিনি অ্যালার্জিপ্রবণ, তিনি যখন কোনো অ্যালার্জির উপাদানের সংস্পর্শে আসেন, তখন সেই অ্যালার্জির উপাদান শরীরে প্রবেশ করে আর অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডি কিছু নির্দিষ্ট কোষে, যাদের বলে মাস্ট সেল, তাদের সংস্পর্শে আসে।
আর এই মাস্ট সেলের সংস্পর্শে আসতেই মাস্ট সেল প্রতিক্রিয়া জানায় হিস্টামাইন নামক এক ধরনের উপাদান নিঃসরণের মাধ্যমে। আর যখনই এটা নিঃসৃত হয়, তখনই আমাদের অ্যালার্জির জ্বালা, চুলকানি শুরু হয়।

ধুলাবালি থেকে অ্যালার্জি
এটি খুবই কমন অ্যালার্জি। সাধারণত এত দূষণ, ধোঁয়া, ধুলাবালি, এই সবই অনেকের শরীর নিতে পারে না। আর যখন এই সবের ক্ষতিকর উপাদান শরীরের সংস্পর্শে আসে, তখনই হয় অ্যালার্জি। একে অনেকে ডাস্ট অ্যালার্জি বলে। এর ফলে মূলত চোখ, নাক সব জ্বালা করে। খুবই কাশি হয়, মুখ লাল হয়ে যায়।

অ্যাস্থমা অ্যালার্জি
অ্যালার্জি যখন বাইরে চাপ চাপ হয়ে প্রকাশ পায় না, কিন্তু প্রকাশ পায় খুব কাশির মাধ্যমে তখন ধরা হয় যে অ্যাস্থমা অ্যালার্জি হয়েছে। এই অ্যালার্জি হয় তখনই যখন কিছু বিশেষ উপাদান আমাদের শরীরে প্রবেশ করে আর বুক এবং ফুসফুসকে আক্রমণ করে। এই উপাদানগুলো তারপর ফুসফুসে গিয়ে জমা হয় আর অ্যালার্জি শুরু হয়।

খাবার থেকে শরীরে অ্যালার্জি
অ্যালার্জি হলে আমাদের ত্বক লালচে হয়ে যায় আর খুব চুলকায়। আর হয় হাইভ। হাইভ হলো এক ধরনের সাদা সাদা র‌্যাশের মতো জিনিস, যা হলে খুব চুলকায়। এগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হয় খাবারের থেকে অ্যালার্জি হলে। ডিম, বেগুন, চিংড়ি এগুলোই হলো বিশেষ উপাদান এই ধরনের অ্যালার্জি হওয়ার জন্য।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে অ্যালার্জি কমানোর উপায়
অ্যালার্জি দূর করার জন্য আপনাদের শুরুতেই মনে হবে যে, ওষুধ খেতে হবে। খুব বড় ধরনের সমস্যা হলে তো ওষুধ খেতেই হবে। কিন্তু অ্যালার্জি যাতে না হয়, সে জন্য আপনি শুরু থেকেই তো ভাবতে পারেন। আজ সে রকম কয়েকটি জিনিসের কথা আপনাদের বলব।

রসুন ব্যবহার করুন
রসুন অ্যালার্জি কমাতে খুব ভালো কাজ দেয়। এটির মধ্যে থাকা ন্যাচারাল অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান যে কোনো রকমের ভাইরাস থেকে আপনাকে রক্ষা করে। এটি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। অনেকে রসুনের থেকে তৈরি সাপ্লিমেন্ট নিয়ে থাকেন। কিন্তু তা ভালো হয় না। তার তুলনায় দুটি রসুন চিবিয়ে ভাতের সঙ্গে খান। এতে বরং বেশি উপকার হবে।

লেবু
লেবুও আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব বাড়িয়ে দেয়। এটি ভিটামিন ‘সি’র একটি খুব ভালো উৎস। আর এতে আছে অ্যালার্জির মতো বিষয় থেকে শরীরকে দূরে রাখার মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। আর যেহেতু আমাদের মধ্যে নানা রকম অশুদ্ধি থাকলে লেবু তা বের করে দেয়, তাই ডিটক্সিফাই হতেও লেবু সাহায্য করে। আপনি লেবুর রস করে খেতে পারেন বা পাতিলেবুর রস আর অলিভ অয়েল একসঙ্গে করে সালাদের ওপর ড্রেসিং করতে পারেন।

সবুজ সবজি খান
আমরা সকলেই জানি যে, সবুজ সবজি সব সময়েই আমাদের শরীরের জন্য খুব ভালো। এ থেকে মিনারেল, ভিটামিন খুবই উপকারে আসে শরীরের। বিশেষ করে পালং শাকের মতো সবুজ পাতাওয়ালা সবজি তো বেশি করেই খাওয়া উচিত।

নারিকেলের দুধ
অনেকের গরুর দুধ খেলে অ্যালার্জির সমস্যা হয়। সে ক্ষেত্রে আপনি নারিকেলের দুধকে বিকল্প হিসেবে রাখতে পারেন। এর মধ্যে কোনো ল্যাকটোস উপাদান থাকে না। আর অ্যালার্জি হয় কিন্তু এই ল্যাকটোস উপাদান সহ্য হয় না বলেই। তাই নিশ্চিন্তে নারিকেলের দুধ ব্যবহার করুন।

মধু
অ্যালার্জির সমস্যা, বিশেষ করে যেটা দীর্ঘ দিন থাকে না, মাঝে মাঝে হয়ে সেরে যায়, সেটা ঠিক করার জন্য মধুই যথেষ্ট। মধু শরীরের মধ্যে সেই সহ্য শক্তি বাড়িয়ে দেয়, যা বাইরের ওই অ্যালার্জি হওয়ার মতো উপাদানের থেকে শরীরকে দূরে রাখতে পারে। রোজ সকালে তাই এক চামচ মধু খান আর সমস্যা দূর করুন।

মাস্ক ব্যবহার করুন
অ্যালার্জি হয় শরীরে অ্যালার্জি হওয়ার উপাদান প্রবেশ করলে। তা যদি ওই অ্যালার্জি হওয়ার উপাদান শরীরে না প্রবেশ করে তাহলে কিন্তু অ্যালার্জি আর হয় না। আর ঠিক সেই জন্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।

স্টিম নিন
অ্যালার্জির জন্য খুব হাঁচি হলে আপনি স্টিম নিন। একটি পাত্রে পানি গরম করুন। আপনার মাথা আনুন ওই পাত্রের ওপর আর তোয়ালে দিয়ে পাত্র সমেত মাথার ওপরে তোয়ালে চাপা দিন। দেখবেন এটা করলে খুব ভালোভাবেই আপনি অ্যালার্জি থেকে রেহাই পাবেন।

অ্যালার্জির ভয় পেয়ে এখন আর থাকতে হবে না। শুধু কয়েকটি জিনিস মানা আর কিছু খাবারের থেকে দূরে থাকা, তাহলেই অ্যালার্জির সমস্যা আর আপনার সামনে আসতে পারবে না। বেশি করে পানি খান, সিগারেটের ধোঁয়া থেকে দূরে থাকুন আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

(ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/আরজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :