টাইগারদের পাক বধের মিশন শুরু আজ

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:১৭

অনেক দরকষাকষির পর আইসিসির হস্তক্ষেপে পাকিস্তান সফরে রাজি হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল তিনটায় লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টাইগারদের পাকিস্তান সফর। পাকিস্তানের মাটিতে ম্যাচটি হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাই বেশি আলোচিত চারদিক জুড়ে।

২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ক্রিকেট খেলুড়ে প্রায় সব দেশই পাকিস্তান সফরে আতঙ্কিত। এই কারণে টাইগারদের পাকিস্তান সফরে নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো ছাড় দিতে চায় না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি।)। টাইগারদের পাকিস্তান সফরকে কেন্দ্র করে পুরো লাহোরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

লাহোরের ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ কর্মকর্তা জুলফিকার আহমেদ জানান, ‘অস্ত্র সজ্জিত ১০ হাজার পুলিশ দায়িত্বে থাকবে ম্যাচের সময়। হোটেল থেকে যে রাস্তা দিয়ে টাইগাররা স্টেডিয়ামে যাবে ওই রাস্তা সিল করা থাকবে। দল আসা-যাওয়া করার সময় সব রাস্তা বন্ধ থাকবে।’

সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে ম্যাচ ভেন্যুসহ আশপাশের এলাকা। স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকায় সব ভবনে থাকবে দক্ষ স্নাইপার। এছাড়া পুরো শহরজুড়েই থাকবে সার্বক্ষণিক তল্লাশি। ম্যাচের দিন বেশ কিছু রাস্তাও বন্ধ রাখবে পাকিস্তান পুলিশ। ২৭ জানুয়ারির শেষ টি-টোয়েন্টি পর্যন্ত বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থায় চলবে পুরো শহর।

পুরুষ জাতীয় দলের পাকিস্তান সফরের বিষয়টি সামনে চলে আসার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে দেশটিতে প্রতিনিধি দল পাঠায় পরিস্থিতি দেখার জন্য। আর বাংলাদেশের চাহিদা আনুযায়ী প্রেসিডেন্টশিয়াল নিরাপত্তা ব্যবস্থাই করছে পাকিস্তান সরকার। জানা গেছে তিন স্তর বিশিষ্ট একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পার হয়েই কেবল স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন একজন দর্শক। লাহোর পুলিশের ডিআইজি রাই বাবর সাঈদ নিশ্চিত করেছেন, মোট ১০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে।

এর আগে শ্রীলঙ্কা দুই দফায় পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলেছে পাকিস্তানে। লঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক আসান্থা ডি মেল জানান, ‘ওপরে হেলিকপ্টার, রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা-এমনকি যেসব রাস্তায় গাড়ি যাবে, সেসব রাস্তার আশপাশে কোনো সাধারণ মানুষকে দেখা যায়নি’। তবে প্রথম দফায় শ্রীলঙ্কার ১০ জন নিয়মিত ক্রিকেটার সীমিত ফরম্যাটের স্কোয়াড থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়।

ক্রিকেট শ্রীলঙ্কার অফিশিয়াল ইউটিউব পাতায় একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মোট ৩২টি বড় গাড়ির একটি বহর শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলকে স্টেডিয়াম থেকে হোটেল এবং হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে নিয়ে গিয়েছিল। ওই বহরে খেলোয়াড় বহনকারী বাসের মতো দেখতে বেশ কয়েকটি বাস ছিল, যাতে ঠিক কোন বাসে ক্রিকেটাররা রয়েছে তা বোঝা না যায়।

এর আগে ২০১৫ সালে পাকিস্তানে সফর করে জিম্বাবুয়ে। ওই দলের সদস্যরা প্রত্যেকে সাড়ে ১২ হাজার মার্কিন ডলার করে পেয়েছিল। ২০১৭ সালে পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনালে খেলে যেসব বিদেশি ক্রিকেটারও বড় অঙ্কের টাকা পেয়েছিল। ২০১৭ সালেই আইসিসির একটি বিশ্ব একাদশ পাকিস্তানে সফর করে। দলের সদস্যরা প্রত্যেকে এক লাখ ডলার করে পেয়েছিল। এছাড়া ২০১৮ সালে যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল পাকিস্তান সফর করেছিল, সেই দলের সদস্যরা ২৫ হাজার ডলার করে পায়।

বাংলাদেশকে নিরাপত্তার পরিকল্পনা ব্যবস্থা সফরের আগে ভাগেই জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তবু বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম পাকিস্তান সফর থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন, কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন নিরাপত্তা নিয়ে তার পরিবার বেশ উদ্বিগ্ন। মুশফিক ছাড়াও কোচিং স্টাফের গুরুত্বপূর্ণ কজন সদস্য যেমন স্পিন বোলিং কোচ ডেনিয়েল ভেট্টোরি, ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি এবং ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যাননি। একই সিদ্ধান্ত নেন বিসিবির কম্পিউটার বিশ্লেষকও।

এদিকে পিসিবি জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে টিকিটের যে মূল্য ছিল, বাংলাদেশের বিপক্ষে সেটি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মাঠভর্তি দর্শক পেতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান বোর্ড।

জাভেদ মিঁয়াদাদ এবং সাঈদ আনোয়ার স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য দেড় হাজার পাকিস্তানি রুপি থেকে ১ হাজার, ইমরান খান এবং ফজল মাহমুদ স্ট্যান্ডের টিকিট ৩ হাজার থেকে ২ হাজার, ওয়াসিম আকরাম এবং ওয়াকার ইউনুস স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য ৫ হাজার থেকে ৪ হাজার পাকিস্তানি রুপিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে যেসব টিকিটের মূল্য ৫০০ রুপি ছিল তা অপরিবর্তিত আছে।

আইসিসি র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী পাকিস্তানের চেয়ে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ দল। ভারতের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতলেও অল্পের জন্য সিরিজ হাতছাড়া হয় টাইগারদের। আর তাতেই বাংলাদেশকে হালকা ভাবে নিচ্ছে না পাকিস্তানিরা।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বাবর আজম বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে কাউকেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ খুব নির্ভার একটা দল। তারা যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে ফেলতে পারে। আমরা বেশ ইতিবাচক। চেষ্টা থাকবে ভালো ক্রিকেট খেলার।’

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড : মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, নাঈম শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, মুস্তাফিজুর রহমান, শফিউল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন, রুবেল হোসেন, হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান।

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড : বাবর আজম, আহসান আলী, আমাদ বাট, হারিস রউফ, ইফতিখার আহমেদ, ইমাদ ওয়াসিম, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মুসা খান, শাদাব খান, শোয়েব মালিক, শাহীন শাহ আফ্রিদি ও উসমান কাদির।

ঢাকাটাইমস/২৪জানুয়ারি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :